৩৬ হাজার কোটিপতির সম্পদের তথ্য গোপন

আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৭, ১১:৪২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



২০১৬-১৭ করবর্ষের আয়ুকর রিটার্নে প্রায় ৩৬ হাজার কোটিপতি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্য সঠিক হিসাব না দিয়ে সম্পদ কমিয়ে দেখিয়েছেন তারা। পরিবর্তন ডটকমের অনুসন্ধানে কোটিপতিদের করফাঁকির এ ভয়াবহ তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে শুধুমাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হিসাবধারী প্রায় ৬২ হাজার কোটিপতি রয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ২০১৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবে (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ৬২ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ১ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া দেশে সম্পদধারী কোটিপতি তো রয়েছেনই।
অন্যদিকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হয় ৩০ নভেম্বর। এই সময়ের মধ্যে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৭টি রিটার্ন জমা পড়ে। এরমধ্যে আয়কর রিটার্নের সম্পদ বিবরণীতে কোটি টাকার ওপর সম্পদ দেখিয়েছেন মাত্র ২৬ হাজার করদাতা। সুতরাং শুধুমাত্র ব্যাংক হিসাবে জমা টাকার হিসাব ধরে বলতে গেলেও প্রায় ৩৬ হাজার কোটিপতি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা সরকারের বিপুল অংকের কর রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সরকারের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এনবিআর কর্মকর্তারা করবান্ধব সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এজন্য সঠিক হারে রাজস্ব প্রধানকারীদের আমরা রাষ্ট্রের সুনাগরিক আখ্যায়িত করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।
নজিবুর রহমান বলেন, যে সকল কোটিপতি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তারা সুনাগরিকের মধ্যে পড়েন না। তারা রাষ্ট্রের দুষ্ট নাগরিক। কর ফাঁকিবাজ দুষ্ট নাগরিকদের খোঁজে বের করার জন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে (সিআিইসি) নির্দেশ দিয়েছি। সিআইসি তাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে। উন্নয়নের অক্সিজেন রাজস্ব আত্মসাৎকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তাদেরকে যাথাযথ আইনের আওতায় আনা হবেই।
নজিবুর রহমান আরো বলেন, কর ফাঁকি বন্ধে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আমরা পার্টনারশিপ ডায়ালগ করছি। এনবিআর সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য নিয়ে কর ফাঁকিবাজদের খুঁজে বের করবে।
কোটিপতির সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকা ছাড়াও দেশে কম করে হলেও ২ লাখ ৪০ হাজার সম্পদধারী কোটিপতি রয়েছে। অথচ মাত্র মাত্র ২৬ হাজার ব্যাক্তি আয়কর রিটার্নে কোটি টাকার সম্পদ দেখিয়েছে-এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দিনদিন কোটিপতিদের ফাঁকির প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।
আবুল বারকাত বলেন, কোটিপতিদের কর ফাঁকি ঠেকাতে এনবিআরকে কঠোর হতে হবে ও আরো অনেক কাজ করতে হবে। সবার আগে এনবিআরকে দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে কোটিপতিদের শনাক্ত করতে হবে। এরপর তাদেরকে যথাযথ আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে দেশের রাজস্ব আদায় বাড়বে না।