৪৬ বছর পর ভোলাহাটে ১২টি সীমান্ত পিলারে ‘পাক’ শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলা’

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস


ভোলহাটের সীমান্ত পিলারে ‘পাক’ শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলা’ প্রতিস্থাপন করা হয়- চাঁপাইপ্রতিনিধি

নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মানুষ। মহান স্বাধীনতা অর্জনের ৪৬ বছর পর ভোলাহাট উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে থাকা ১২টি সীমান্ত পিলারের নাম সংশোধন করা হয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে গতকাল বুধবার সীমান্ত পিলারগুলোয় থাকা ‘পাক’ শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলা’ শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর পিলারগুলোর নাম সংশোধন হওয়ায় স্বন্তি ফিরে এসেছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
জানা গেছে, ৭১ সালের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের অন্য সীমান্তের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের পিলারগুলোতে ‘পাকিস্তান’ কেটে ‘বাংলাদেশ’ করা হয়। কিন্তু ভোলাহাট উপজেলার চামুসা, গিলাবাড়ি ও চাঁনশিকারী সীমান্তের ১২ পিলারে ‘পাক’ লেখা থেকে যায়। বিষয়টি নজরে এলে তা সংশোধনের জন্য তৎপরতা শুরু করে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। কিন্তু নানা জটিলতায় দীর্ঘদিনেও সংশোধনের প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয় নি। বিষয়টি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ আলী নতুন করে তৎপরতা শুরু করেন। এ ব্যাপারে বিএসএফের কাছে তিনি একাধিকবার চিঠি দেন। অবশেষে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সম্মতিতে গতকাল বুধবার সকাল থেকে সীমান্ত পিলারগুলোর নাম সংশোধনের কাজ শুরু করে বিজিবি। ৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ আলীর নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা ভোলাহাটের চামুসা, গিলাবাড়ি ও চাঁনশিকারী সীমান্তের ১২ পিলারে ‘পাক’ শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলা’ শব্দ প্রতিস্থাপন করেন। এসময় ভারতের মালদা জেলার ৮২ বিএসএফ ব্যটালিয়নের পক্ষে বীরেন্দ্র সিং, জি. কেরকাটা ও অরবিন্দ কুমারসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক জানান, তার ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ২৮২ টি সীমান্ত পিলারের মধ্যে ১২ টিতে ‘পাক’ লেখা থেকে যায়। বিষয়টি সংশোধনের জন্য বিজিবির সদর দফতর অনেক আগে অনুমতি দিলেও তাতে বিএসএফর সম্মতি মিলছিল না। অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে বিএসএফ সম্মতি দিলে গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিজিবি সদস্যরা পিলারগুলোয় ‘পাক’ শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলা’ শব্দ প্রতিস্থাপন করেন।
এদিকে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর এই ভুল সংশোধন হওয়ায় দারুণ খুশি এলাকার সাধারণ মানুষ। ভোলাহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কবির জানান, এতে করে ভোলাহাটের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো।
ভোলাহাট উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সভাপতি নূরুল হক জানান, সীমানা পিলারে থাকা নাম সংশোধন হওয়ায় খুশি মুক্তিযোদ্ধারা।

Don`t copy text!