‘৫০ ভাগ নারী চলাফেরার সময় অনাকাক্সিক্ষত স্পর্শের শিকার’

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৭, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


‘শতকরা ৫০ ভাগ নারী বাজারে চলাফেরা করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের শিকার হন। অন্যদিকে, হাসপাতালে গিয়ে ৪২.৫ ভাগ নারী সেবাদাতাদের দুর্ব্যবহারের শিকার হন। এছাড়া, ৩০ ভাগ নারী পুলিশ স্টেশনে ইভটিজিংয়ের শিকার ও শতকরা ৩৫ জন নারী বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।’ রবিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মানসম্মত গণসেবা বিষয়ক মতবিনিময় সভা’য় একশন এইড বাংলাদেশ এসব তথ্য জানিয়েছে।
মানসম্মত গণসেবা বিষয়ক মতবিনিময় সভা
‘গণপরিসরে নারীর প্রতি সহিংসতা: পরিপ্রেক্ষিতে গণসেবা’ শীর্ষক গবেষণাটি তুলে ধরে একশন এইড বাংলাদেশ। এসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উন্নয়নমূলক সংস্থার প্রতিনিধিরা গণসেবা নিয়ে প্রান্তিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘অর্থায়ন, নীতির বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ গণসেবাগুলো জনমুখী নয়। তাই স্বাস্থ্য শিক্ষা ও যাতায়াতের মতো জরুরি গণসেবা নিতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা।’
একশন এইড জানায়, ২০১৬ সালের প্রথমদিকে খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটির পুলিশ প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পরিবহণ কর্তৃপক্ষ, বাজার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং হাসপাতালে সেবা নেওয়া চারশ মানুষের ওপর এ গবেষণা করা হয়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই। আবার এসব স্থানে সহিংসতার কোনও ঘটনা ঘটলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো যথাযথভাবে আমলে নেওয়া বা সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে দাবি করা হয়েছে গবেষণাটিতে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই গবেষণার ফল ও গণসেবা নিয়ে একটি ধারণাপত্র তুলে ধরেন একশন এইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নুজহাত জেবিন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা, নিরাপত্তার বিষয়ে গণসেবা নিতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নারীরা সমস্যায় বেশি পড়েন। মূলত জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বাজেট বরাদ্দের অভাব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবেই এমন অবস্থা।’
গবেষণার ফল নিয়ে গণসেবার ধারণাপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। স্বাস্থ্যখাতে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে মাথাপিছু বাৎসরিক গড় বরাদ্দ ২৭ ডলার যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক উল্লিখিত দক্ষিণ এশিয়ায় গড় মাথাপিছু বরাদ্দের থেকে ২৫ শতাংশ কম।
গবেষণার ফল ও গণসেবা খাতে সরকারের বরাদ্দ ও বিভিন্ন উদ্যোগের বিশ্লেষণ করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক সিনিয়র গবেষক প্রতিমা পাল মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমরা নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের দেশ হয়ে গেছি। কিন্তু আয়কর দিচ্ছে কয়জন? অনেকেরই এখনও আয়কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা রয়ে গেছে। তাই রাজস্ব বাড়াতে নতুন উদ্ভাবনী কৌশল নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও একশন এইড বাংলাদেশের পরিচালক আজগর আলী সাবরি বলেন, ‘যদি সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয় তাহলে সে কর্মক্ষম হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাই গণসেবা নিশ্চিত করতেই হবে। অর্থায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে প্রচলিত ধারার বাইরে করপোরেট ট্যাক্সকে আমলে নিতে হবে।’
গবেষণা ও ধারণাপত্রে প্রতিষ্ঠানটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জেন্ডার সংবেদনশীল গণসেবা কাঠামোর কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে গণসেবায় সরকারিভাবে অর্থায়ন বাড়ানো; সরকারিভাবে সেবা প্রদান নিশ্চিত করা; স্বচ্ছ ও জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; জবাবদিহিতামূলক গণসেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এছাড়া সার্বিক গণসেবার পরিস্থিতি উন্নয়নে জনবান্ধব গণসেবার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন