৫০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট: জুলাই ২৩, ২০১৮, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বাণিজ্যযুদ্ধের তিক্ততাকে আরো বাড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্রে চীন থেকে আমদানি হওয়া প্রতিটি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনবিসি নিউজে গতকাল প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এ হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২০১৭ সালে চীন থেকে মোট ৫০৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন (৫০ হাজার ৫৫০ কোটি) ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনে এর পুরোটাতেই শুল্কারোপের জন্য মানসিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সিএনবিসির জোয়ে কারনানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এটি (শুল্কের আওতা) পুরো ৫০০-তেই (বিলিয়ন ডলার) তুলে নিতে প্রস্তুত।’
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিকে সামনে রেখে এ বাণিজ্যযুদ্ধের সূচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তথ্যমতে, ২০১৭ সালে চীনে মোট ১২ হাজার ৯৯০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্র। এ হিসাবে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৫৬০ কোটি ডলারে।
ক্রমে তিক্ত থেকে তিক্ততর হয়ে ওঠা বাণিজ্যযুদ্ধে উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত ১৫ জুন প্রথম দফায় চীন থেকে আনা মোট ৫ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসানোর ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক ৬ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর এ শুল্ক যে কোনো সময় কার্যকর হতে পারে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর অভিযোগ তোলে চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টির পক্ষ থেকেও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা সমপরিমাণ মূল্যের পণ্যের ওপর সমহারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়া হয়। এক্ষেত্রেও নতুন শুল্ক কার্যকরের দিন ঘোষণা করা হয় ৬ জুলাই।
তিনদিন পর চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ প্রতিক্রিয়ার জবাব জানায় হোয়াইট হাউজ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, চীন যদি এ শুল্ক কার্যকর করে, তাহলে অতিরিক্ত আরো ২০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের চীনা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে।
মার্কিন এ হুমকি চীনকে পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। চীনে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের আমদানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর পরবর্তী শুল্ক আরোপের সঙ্গে সঙ্গে একই প্রতিক্রিয়া দেখাবে বেইজিং।
এর প্রতিক্রিয়ায় ১১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরবর্তী শুল্ক আরোপের আওতাধীন পণ্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যেই এ শুল্ক কার্যকর করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘মূল্যের দিক থেকে বাণিজ্যযুদ্ধের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে না চীন।’ তার এ বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, চীনের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে রেষারেষিতে এগিয়ে থাকার জন্য যতদূর সম্ভব যেতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তার এসব পদক্ষেপের ফলে যদি পুঁজিবাজারে ধস নামে, সেক্ষেত্রে কী হবে? এর জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তা হয় তো হবে!’ এর প্রতিক্রিয়ায় সিএনবিসির পক্ষ থেকে তার কাছে আবারো জানতে চাওয়া হয়, ‘যদি এ ধসের মাত্রা ২০ শতাংশে দাঁড়ায়’? এর উত্তরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘দেখুন, আমি এটি রাজনীতির জন্য করছি না। করছি আমাদের দেশের জন্য সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে। চীন দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শুষে চলেছে।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন চীনা নেতাদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ হাজার ৫৬০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি মেটানোর উদ্যোগ নেয়া হোক। শুরু থেকেই চীনের বিরুদ্ধে অনৈতিক বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ তুলে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়া চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রযুক্তি হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, চীনের প্রতি কোনো বিরূপ মনোভাব থেকে শুল্ক আরোপের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না তারা ভয় পাক। আমি চাই তারা ভালো করুক। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আমি সত্যিই অনেক পছন্দ করি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা অন্যায্য।’
ট্রাম্প আরো জানান, জনৈক চীনা কর্মকর্তা তাকে বলেছেন, ‘আপনি আসার আগে পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো থেকে কেউ কখনো কোনো অভিযোগ তোলেনি। এখন আপনি যা করছেন, তা অভিযোগের চেয়েও বেশি। আপনি যা করছেন, তা আমাদের পছন্দ হচ্ছে না।’ তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা