৫৮ বছরে চিনামাটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয় নি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

আবদুুল্লাহ হেল বাকী, ধামইরহাট


চিনামাটি প্রকল্পের এ কাজটি ৫৮ বছরেও শুরু করা হয় নি-সোনার দেশ

কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় আজও ফাইলবন্দী পত্নীতলার খনিজ প্রকল্পটি। দীর্ঘ ৪৬ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি ব্যাপক সম্ভাবনাময় চিনামাটির খনিজ শিল্প। সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বছরের পর বছর ধরে ফাইলবন্দী হয়ে থাকার কারণে নওগাঁর পত্নীতলা-ধামইরহাট থানার মাঝামাঝি জিয়াবাজার নামক স্থানে পাকিস্তান আমলে আবিস্কৃত চিনামাটি প্রকল্পটি শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পাকিস্তান সরকার ১৯৫৮ সালে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান টিম নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানা থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে পত্নীতলা-ধামইরহাট সড়কের পাশে, জিয়াবাজার সংলগ্ন আমবাটি গ্রামের একটি পুকুরের পশ্চিম পাড়ে উন্নত মানের চিনামাটির খনিটি চিহ্নিত করেন। ভূ-পৃষ্ট থেকে প্রায় ২ হাজার ফুট গভীর উন্নত এবং উৎকৃষ্ট মানের চিনামাটির খনিটির সন্ধান মেলায় সে সময় গোটা উত্তরাঞ্চলের আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। একই সময় জয়পুুরহাট ও জামালগঞ্জের কয়লা খনির সন্ধানটিও পাওয়া যায়। এলাকাবাসী দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিক্ষায় রয়েছেন কবে থেকে খনিজ প্রকল্পটি সরকারি ভাবে হাতে নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। জানা গেছে, সে সময় জরিপ দল কয়লা স্তর বিন্যাসের মান নির্ণয়ের সময় কয়লার পাশাপাশি চুনা পাথরের মত মূল্যবান চায়না ফ্লে বা চিনামাটির সন্ধান পায়। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিমাতা সুলভ মনোভাব ও বৈষম্যতার কারণে এ প্রকল্পটির ফাইল চাপা পড়ে যায়। এলাকার জনগণের দাবি ছিল এ খনিজ প্রকল্পের কাঁচামাল দিয়ে একটি চিানামাটি শিল্প গড়ে তোলার। যাতে এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান হয়। সে সময় প্রকল্পটি চালু করার জন্য স্থানীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তার পরেও প্রকল্পটি স্থান একেবারে মফস্বল এলাকা। তাই বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমগুলোর সুনজর নেই বললেই চলে। দেশ স্বাধীনের দীর্ঘ ৪৬ বছর পরও এই চিনামাটি খনির উপর কোনা প্রকার গুরুত্ব দেয়া হয়নি। পত্নীতলার আমবাটি গ্রামের আলীমুদ্দীন আকন্দের ছেলে জমি মালিক আবদুর রহমান বলেন, পাকিস্তান সরকারের সময় আমার এই জমিতে উন্নত চিনামাটির সন্ধান পাওয়ার পর উত্তরাঞ্চলে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান টিমে পাকিস্তানি একটি দল বর্তমান বাংলাদেশের প্রায় ১শ শ্রমিক নিয়ে চিনামাটির উত্তোলনের তৎপরতা চালাতে থাকে। অনুসন্ধান টিমের নিজস্ব জেনারেটরে মাধ্যমে বৈদ্যুতিক আলোয় সমস্ত আমবাটি গ্রাম আলোকিত হয়ে থাকতো। তৎকালীন সময়ে এখানে বড় একটি বাজার গড়ে উঠছিল। অনুসন্ধান টিমটি প্রায় ১০ বৎসর আমবাটি গ্রামে অবস্থান করেছিল। ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে পাকিস্তানি অনুসন্ধান টিমটি খনিটির মুখে ৪টি পয়েন্টে সিমেন্টের পিলার দিয়ে চিহ্নিতকরণ ও ভূ-তত্ত্ববিদগণ যেখানে পরীক্ষা চালিয়ে ছিলেন এবং পরে সেই স্থানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। ভূমি মালিক জানান, সরকারিভাবে চিনামাটি প্রকল্পটির কোন প্রকার খোঁজ খবর না থাকায় আমার আবাদি জমির কিছুটা হলেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে বেশ কয়েকবার রাজমিস্ত্রি এনে খনির মুখের ওই পিলারগুলো ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। হয়তবা কোন একদিন পিলারগুলো উপড়ে ফেলা হবে। আর সেই সঙ্গে শেষে হয়ে যেতে পারে পত্নীতলার মূল্যবান চিনামাটির চিহ্ন। আমবাটী বাজারের দোকানদার হামিদ বাবু জানায়, প্রতিদিন অনেক লোকজন এ পিলারগুলো দেখতে আসে। ধামইরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র রেজুয়ান হোসেন বলেন, সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি থাকলে এতদিনে পত্নীতলার খনিজ চিনা মাটির প্রকল্পটি ফাইলবন্দী হয়ে থাকত না। পত্নীতলা-ধামইরহাট এলাকাবাসীর প্রশ্ন আর কতদিন এ প্রকল্পটি ফাইলবন্দী হয়ে থাকবে।