৫ জনকে হারিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল শিশু নাহিদ

আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় বাংলা টেক্সটাইলের মালিক রফিকুল ইসলাম। স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সোনার সংসার। বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে বড় দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। মেয়ের জন্মের দশ বছর পর জন্ম নেয় শিশুপুত্র নাহিদ। শুক্রবার একটি দুর্ঘটনায় পরিসমাপ্তি ঘটে সব স্বপ্নের।
পাঁচ সদস্যের পরিবারের সবাইকে হারিয়ে নিভু নিভু করে জ্বলছে বেঁচে যাওয়া একমাত্র তিন বছরের শিশু নাহিদের জীবন প্রদীপ। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, বেঁচে যাওয়া শিশুটি আইসিইউতে ।
নাহিদের ফুপু সাবিনা ইয়াসমিন ঝর্না বলেন, নিমিষেই শেষ হয়ে গেল আমার ভাইয়ের পরিবারটি। আমার ভাইয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করবে। বড় ছেলে নাবিল ইসলাম এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে। তার বাবার ইচ্ছে ছিল ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে ভর্তি করাবে। মেয়ে রওনক জাহান মাধবদীর একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তো। সবাই চলে যাওয়ার পর পরিবারের শেষ প্রদীপটার আলোও নিভু নিভু।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউয়ের চিকিৎসক ডা. আকিকুল ইসলাম জানান, জ্ঞান ফেরার পর থেকেই শুধু কান্নাকাটি করছে। হয়তো খুঁজছে মা-বাবা, ভাই-বোনকে। শিশুটির যে অবস্থা তাতে এ হাসপাতালে তার চিকিৎসা সম্ভব না। তার মাথায় বড় ধরনের আঘাত রয়েছে। চোয়ালটি ভেঙে গেছে, জিহ্বা কেটে গেছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
নিহত রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার দূর্গাপুর উপজেলার শাখাইচন্ডীগড় গ্রামে। আর নিহত আশরাফুল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্বপরিবারে বসবাস করতো নরসিংদী জেলার মাধবদিতে। রফিকুল স্বপরিবারে ঈদের ছুটিতে দূর্গাপুর থেকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর শ্বশুরবাড়ি এসেছিলেন। সেখান থেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল যাচ্ছিলেন ভাইয়ের বাড়িতে।
বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর নামকস্থানে পৌঁছলে কিশোরগঞ্জগামী এমকে পরিবহনের দ্রুতগতির একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শামসুন্নাহার শাহানা মারা যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শামসুন্নাহার শাহানা মারা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুত্বর আহত অবস্থায় রফিকুল ইসলাম, তার ছেলে নাবিল ইসলাম, নাহিদ ইসলাম, কন্যা রওনক জাহান, শ্যালক আশরাফুল ইসলাম এবং প্রাইভেটকার চালক সেলিমকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম, নাবিল ইসলাম ও মেয়ে রওনক জাহানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজন আশরাফুল ও চালক সেলিমকে ৭নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে আশরাফুল মারা যায়।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন