৫ টাকার টিকিটে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী || এই দৃষ্টান্ত মন্ত্রী-এমপিদের কাছ থেকেও চাই

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

পাঁচ টাকা মূল্যের নির্ধারিত টিকিট কেটে গাজীপুরের কাশিমপুরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এনিয়ে গত শনিবার সোনার দেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরটি ছাপা হয়েছে। দেশের রাষ্ট্র প্রধান যখন পাঁচ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে নিজের চিকিৎসা করান। তখন সেই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটা উন্নত হয়। কারণ তিনি চিকিৎসকদের কাছে আস্থা নিয়ে এই হাসপাতালে গেছেন। তাই গ্রামীণ চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মতো আমাদের মন্ত্রী, এমপি ও সমাজের উচু ব্যক্তিদের তৃণমূল পর্যায়ে যেসব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে তাদেরকে চিকিৎসা করা উচিত। এতে করে চিকিৎসকগন তখন নিয়মিত হাসপাতালে রোগী দেখবেন। ফলে সাধারণ রোগীরাও ভালো চিকিৎসা সেবা পাবেন। এই দৃষ্টান্ত আমাদের মন্ত্রী-এমপিদের তৈরি করতে হবে।
অথচ আমরা গণমাধ্যমে দেখি নামিদামি মানুষরা চিকিৎসার জন্য বিদেশ গেছেন। আত্মীয়-বন্ধুদের মুখে শুনি চিকিৎসার জন্য তাঁরা বিদেশ যাবেন বা গিয়েছিলেন। শুনি কেউ গিয়েছিলেন ভারতে, কেউ গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুর, আবার কেউ গিয়েছিলেন বিলাত বা আমেরিকায়। কোন দেশে কে যাবেন বা গিয়েছিলেন, তা নির্ভর করে একজনের আর্থিক সংগতি বা প্রভাবের ওপর। প্রভাবের কথাটা বললাম এ জন্য যে অনেকেই সরকারি খরচে বিদেশে যান চিকিৎসার জন্য।
সরকারি খরচে যে শুধু নেতা-নেত্রীরাই বিদেশে যাচ্ছেন তা নয়। অনেক শিল্পীও বিদেশে চিকিৎসার জন্য গেছেন সরকারি খরচে। তবে কথা হচ্ছে তাঁরা কারা? তাঁদের সবাই এমন রোগে ভোগেননি যার চিকিৎসা বাংলাদেশে হতো না। তাঁদের সবাই এত গরিব নন যে তাঁরা নিজের চিকিৎসার খরচ নিজে বহন করতে পারতেন না। তদবির সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র আমাদের দেশে। অর্থাৎ এমন অনেকে সরকারি অর্থে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেছেন, যাঁদের চেয়ে গুরুতর রোগে ভুগেও অনেকে চিকিৎসা পাননি তদবিরের অভাবে।
চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশ গমন এখন বহুল আলোচিত। তাঁর চোখের সমস্যা, হাঁটুর সমস্যা ইত্যাদি। আগে তিনি সৌদি আরবে যেতেন, এবার বিলাত গেছেন। এক ঢিলে যদি দুই বা ততোধিক পাখি মারা যায় তবে তা নয় কেন! আরবে গেলে চিকিৎসা আর তীর্থ দুটিই হতো। বিলেতে পরিবারের সদস্য-সদস্যাদের সঙ্গে সময় কাটানো হবে চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে। অনেকে বলছেন যে রাজনীতি করা যাবে। বিলাতে আছেন আট বছর ধরে তাঁর বড় ছেলে, যিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁর ছেলে আট বছর ধরেই চিকিৎসায় আছেন। ভালো হলে তো দেশে ফিরে আসতেন। কিন্তু বিলাতের চিকিৎসায় আট বছরে তিনি ভালো হলেন না। বিলাতের চিকিৎসা অকার্যকর জেনেও মা গেলেন সেই দেশেই চিকিৎসার জন্য। সেখানে যাওয়ার জন্য তীর্থ গমনের সুযোগ ছাড়লেন তিনি। তাই আমাদের মনমানসিকতা বদলাতে হবে। দেশের চিকিৎসাসেবার উপর নজরদারি বাড়তে হবে। রোগীরা যেন বিদেশ নির্ভর না হয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মতো সবাই যেন পাঁচ-দশ টাকা মূল্যের টিকিট ক্রয় করে চিকিৎসা নেয়। এতে করে দেশের অর্থ বিদেশে ব্যয় হবে না। এজন্য চিকিৎসকসহ সবাইকে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ