৫ বছরে ব্যাংকগুলোর ঋণ বেড়েছে ৭৯ শতাংশ

আপডেট: জুলাই ২৯, ২০১৯, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গত ৫ বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতের আমানত ৫৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ বাড়লেও এ সময় ব্যাংকগুলোর ঋণ বেড়েছে ৭৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ সময় কৃষিঋণ বেড়েছে ৪৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। রোববার (২৮ জুলাই) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আর্থিক খাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৮টি রাষ্ট্রায়াত্তসহ দেশের ৫৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ২০১৪ সালে আমানতের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ১০ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এটি বেড়ে ১১ লাখ ২৬ হাজার ৩৭৩ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। বৃদ্ধির হার ৫৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
এছাড়া, ২০১৪ সালের ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ ছিল যেখানে ৫ লাখ ২৮ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা, তা ৭৯ দশমিক ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এপ্রিল ২০১৯ তারিখে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা।
এদিকে, এ সময় কৃষিঋণ বেড়েছে ৪৭ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৩৬ কোটির স্থলে (জুন ২০১৯ তারিখে) ২৩ হাজার ৬১৬ কোটি হয়েছে।
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে আরও জানা গেছে, জুন ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৩৭ হাজার ৯৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছর একই সময় এটি ছিল ৩৩ হাজার ৫১১ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া, বৈঠকে আগামী ৫ বছরে বৈদেশিক ঋণের একটি প্রক্ষেপণও জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈদেশিক ঋণ ২০২০ সালে ৪৪ হাজার ৫৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১ সালে ৫১ হাজার ৬১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ২০২২ সালে ৫৮ হাজার ৯১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এমআরটি, মাতারবাড়ির মতো বড় বড় প্রকল্পের কারণে আগামী বছরগুলোয় বৈদেশিক ঋণ বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাংক ও জাপানসহ উন্নয়ন সহযোগীরা তাদের ঋণের শর্তাবলি আগের চেয়ে কঠিনতর করেছে। বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো খাতে অনমনীয় ঋণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে অনমনীয় ঋণের পরিমাণ বাড়বে।
এদিকে, সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জুন ২০১৯ পর্যন্ত মোট বৈদেশিক সহায়তা অর্জিত প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ৯ হাজার ৭৯৫ দশকিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বৈদেশিক সহায়তার ছাড়ের পরিমাণ ৬ হাজার ২১০ দশমিক শূন্য ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে সরকারকে ৬৮৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময় সরকারকে ঋণ দিয়েছে ২১ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা।
কমিটির সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, মো. আব্দুস শহীদ, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী. আহমেদ ফিরোজ কবির, রুমানা আলী ও রানা মোহাম্মদ সোহেল অংশ নেন।