৭ মাস ধরে টিনের ছাউনিতে পড়াশোনা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কমলমতি শিশুরা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

কুরবান আলী, দিনাজপুর


দিনাজপুরের করিমুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ মাস ধরে টিনের ছাউনিতে এভাবে পাঠদান করা হচ্ছে- সোনার দেশ

পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ না থাকায় দীর্ঘ ৭ মাস ধরে দিনাজপুরের করিমুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী টিনের ছাউনির নিচে পড়াশোনা করছে। এতে করে কমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ৭ মাস হলেও বিদ্যালয়ের জন্য ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেনি স্থানীয় সরকার বিভাগ।
দিনাজপুর সদর উপজেলার পুলহাট করিমুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এক মাঠে ২ স্কুলের রয়েছে। ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অন্যটি হাই স্কুল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের সামনে গড়ে তোলা হয়েছে টিনের ছাউনি দেয়া ২টি ঘর। ঘরগুলোর নাই কোন গেট, নাই কোন জানালা। কারণ সব দিক দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারে আবার সব দিক দিয়ে বের হতে পারে। হাই স্কুলের বড় ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করলে ধুলাবালিতে শিশু শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। পর্যাপ্ত ক্লাশ রুম না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাশের শিফট পরিবর্তন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত টিনের ছাউনিতে ১ম শ্রেণি ও ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয় এবং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। গত বছর জুলাই মাসে বিদ্যালয়ের ১টি ভবন ভাঙা হয় নতুন ভবন করার জন্য। কিন্তু প্রায় ৭ মাস হয়ে আসলেও নির্মাণ কাজ শুরু করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্র সুমন ইসলাম (৫) জানান, বড়রা যখন মাঠে খেলে তখন আমারা ঠিক মত ক্লাশ করতে পারি না। আমাদের ক্লাশ রুম চারিদিকে খোলা থাকায় অনেক ধুলাবালি ঢুকে। পড়াশোনা করতে অনেক সমস্যা। ধুলাবালির কারণে আমাদের নিশ্বাস নিতে সমস্যা হয়।
বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী সাবিনা (৭) জানান, স্কুলে এসে পড়াশুনা করতে খুব ভাল লাগে। স্কুলের শিক্ষকরা খুব ভাল করে আমাদের পড়াশুনা করান। শ্রেণিকক্ষ কম থাকায় যখন আমাদের মাঠের মধ্যে ক্লাস করতে হয় তখন খুব খারাপ লাগে। ইচ্ছে হয় এখনই বাড়িতে চলে যাই। গত বছর আমাদের ক্লাশ রুমের বিল্ডিংটা নতুন করার জন্য ভেঙে দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অনেক হওয়ার পরেও নতুন ক্লাশ রুম করার কাজ শুরুই করেনি। এখানে ক্লাশ করতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।
অভিভাবক নজরুল ইসলাম ও আকলিমা বেগম জানান, গত বছরের জুলাই মাসে ক্লাশ রুমের ভবনটি ভেঙে দেয় কর্তৃপক্ষ। তখন কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের বলেছেন যে, কয়েক মাসের মধ্যে নতুন ভবন হয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘ ৭ মাস হয়ে আসলেও নতুন ভবন হওয়ার তো দুরে কথা কাজই শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এতে করে আমাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। আগামীতে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা কিভাবে ক্লাশ করবে তা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নাই।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক রায়েবা খানম জানান, ছোট ছোট শিশু শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কারণে মাঠে টিনের ছাউনির মধ্যে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছি। বাচ্চাদের মাঠে ক্লাস নেওয়ায় অনেক অভিভাবক অসন্তুষ্ট হয়ে তাদের বাচ্চাকে অন্য স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন। এমন সমস্যা নিয়ে একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেও কোন ফল হচ্ছে না। স্কুলের বর্তমানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীরা। পর্যায় শ্রেণি কক্ষ না থাকায় এবার কোন ধরনের শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সরকার বিভাগে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, স্কুলের জন্য ১ জন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন কাজ শুরু করেনি ঠিকাদার।
স্কুল নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ও শেখপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, তিনি কাজ করার জন্য কোন কার্যাদেশ পাননি। তাই কাজ শুরু করেন নি। কার্যাদেশ পেলেই কাজ শুরু করবেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান জানান, পুলহাট করিমুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য কিছুদিন আগে ১টি টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডারটি শেখপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোমিনুল ইসলামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পান। তাকে মৌখিক ভাবে কাজের জন্য বলা হয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।