অটিজম সচেতনা দিবসে খায়রুজ্জামান লিটন।। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০১৭, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ অতিথিরা- সোনার দেশ

দশম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সসদ্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। সমাজের সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। গতকাল রোবাবর নগরীরর মুন লাইট গার্ডেনে এফডব্লিসিএ উদ্যোগে দশম বিশ্ব অটিজম দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এসব কথা বলেন।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহীতে এফডব্লিসিএ ২০০৫ সাল থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করছে। নানা সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও সেবা করা হচ্ছে। আমি এই প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্ট্রি। নিদিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। এরমধ্যে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পানা গ্রহণ করেছি। আমি জানিনা দীর্ঘমেয়দি পরিকল্পানার সঙ্গি হতে পারবো কিনা। তবে মধ্যমেয়াদি এবং স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা সঙ্গে আমি থাকতে পারব বলে মনে করি। আর এই কাজটি এখন সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
এছাড়া তিনি আরো বলেন, এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছোটভাই ড. সাদিকুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক ছোট বোন ওয়াহিদা খানাম লিপি এবং মহানগর আ’লীগের সহসভাপতি, ট্রাস্টি ও বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহিন আকতার রেনী। তারা গত ১২ বছর যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে সেটি অকল্পনীয়। এজন তারা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সেবা পাচ্ছে। লিটন আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য খুবই আন্তরিক। তিনি এবিষয়ে যেকোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য সবসময়ই প্রস্তুত।
এছাড়া সভায় আরো বলা হয়, সম্প্রতি এফডব্লিউৃসিএ্ এর উদ্যোগে নিজস্ব ভাবনের জন্য একটি জায়গা খোজা হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভাবন হলে সেবার মান আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। রাজশাহীর সকল মানুষকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের এ প্রতিষ্ঠান ফাউণ্ডেশন ফর উইমেন এণ্ড চাইল্ড এসিসটেন্ট (এফডব্লিসিএ) প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়ানো আহবান জানানো হয়।
দশম বিশ্ব অটিজম দিবস উপলক্ষে ফাউণ্ডেশন ফর উইমেন এণ্ড চাইল্ড অ্যাসিসটেন্টের (এফডব্লিসিএ) এর উদ্যোগে নগরীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে নগরীরর আলুপট্টি মোড়ে বেলুন উড়িয়ে র‌্যালির উদ্বোধন করেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও এফডব্লিসিএ ট্রাস্ট্রি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, মহানগর আ’লীগের সহসভাপতি, এফডব্লিসিএ ট্রাস্টি ও বিশিস্ট সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী, নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাসিকের সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবু, রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, দৈনিক উত্তরা প্রতিদিনের সম্পাদক আব্দুল্লাহ আর মাহমুদ বাবলু, ফাউণ্ডেশন ফর উইমেন এণ্ড চাইল্ড এসিসটেন্টের (এফডব্লিসিএ) নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা খানমসহ প্রতিষ্ঠানের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ।
এদিকে দশম অটিজসম সচেতনা দিবসের এ আলোচনা সভার কী নোট উপস্থান করেন, আনিকা ফারিহা জামান অর্না। এ কী নোটের বিষয় অটিজম কী, তার কারণ ও করণীয়। স্বাগত বক্তব্য দেন, এফডুব্লিউসি এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. সাদিকুর রহমান।
সভায় সমাজসেবী শাহীন আক্তার রেনী বলেন, আমার ব্যক্তিগত কষ্টের জায়গা থেকেই এ শিশুদের কষ্টটা বুঝি। তাদের জন্য কিছু করার ই”্ছা থেকেই ২০০৫ সালে ফাউণ্ডেশন ফর উইমেন এণ্ড চাইল্ড এসিসটেন্ট (এফডব্লিসিএ) সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত। তিনি উপস্থিত সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরাও সমাজের জন্য অনেক কিছু করতে পারে। তাদের অবহেলা করা যাবে না। সঠিক প্রশিক্ষণ দিলে তারা সকল পিতা-মাতার মুখে হাসি ফোটাতে পারবে।
ফাউণ্ডেশন ফর উইমেন এণ্ড চাইল্ড এসিসটেন্ট এর আয়োজনে এ আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন, ফাউণ্ডেশন ফর উইমেন এণ্ড চাইল্ড এসিসটেন্ট (এফ ডব্লিসিএ) নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা খান লিপি।
রামেক হাসপাতাল: ‘স্বকিয়তা ও আত্মপ্রত্যয়ের পথে’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে দশম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল রোববার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল র‌্যালি হাসপাতাল সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হাবিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. নওশাদ আলী। এসময় নগরের মহিষবাথান এলাকার বাসিন্দা অটিজম শিশুর মা জিনা খাতুন, মানষিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আল মামুন হোসাইন, শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সানাউল হক মিঞা, শিশু বিভাগের আবাসিক ফিজিশিয়ান, ডা. লাইলা শামীমা শারমীন। অটিজম বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, রামেক হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রের শিশু মানষিক বিশেষজ্ঞ মো. জাকারিয়া। এতে উপস্থাপনা করেন, মেডিসিন বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হামিদা পারভীন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অটিজম শিশুদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।