‘অতিক্ষুদ্র ভাইরাস হাঁটু ভেঙ্গে বসতে বাধ্য করেছে’ করোনা মানব জাতির জন্য সতর্ক-সংকেত!

আপডেট: জুলাই ২২, ২০২০, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস বলেছেন, করোনাভাইরাস সমাজের ‘ভঙ্গুর কঙ্কালটিকে’ প্রকাশ করে দিয়েছে। এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্বের ১০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার ১০২ তম জন্মবার্ষিকীতে তিনি এ কথা বলেছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। জাতিসংঘ ও বিশ্বের দেশসমূহ দারিদ্র বিমোচণের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতির ধারায় এগোচ্ছিলÑ তা এই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দারিদ্র বিমোচণের কৌশল ও কর্মসূচিকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্যে তেমনটিই আভাস পাওয়া যায়। তিনি আরো বলেছেন, ‘একটি অতিক্ষুদ্র ভাইরাস আমাদেরকে হাঁটু ভেঙ্গে বসতে বাধ্য করেছে। মহামারিটি আমাদের বিশ্বের ভঙ্গুরতা প্রদর্শণ করেছে।’ এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, করোনাভাইরাসের মুখোমুখি হয়ে মানব সভ্যতা দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে বসেছে। তদুপরি সেটা সহজ স্বীকারোক্তির প্রকাশ ঘটেনি। করেনাভাইরাস মানুষের অহংবোধে, ভেদবুদ্ধিতে সাংঘাতিক রকমের আঘাত হেনেছে। সেই আঘাতে পৃথিবীর আর্থ-সামাজিক আদলটাই পাল্টে দিয়েছে। কিন্তু তাতে করে মানুষের আচরণের পরিবর্তন হয়েছে এমনটি বলার কোনো সুযোগ নেই। করোনা-বিপর্যস্থ পরিস্থিতির মধ্যেই ক্ষুদ্র ও বৃহৎ স্বার্থের ভীষণ টানাপোড়েন আমরা দেখছি। আধিপত্য বিস্তারের প্রয়াস দেখছি। অসমতা, অন্যায্যতা, বিভেদ সৃষ্টির প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতিক্ষুদ্র ভাইরাস হাঁটু ভেঙ্গে বসতে বাধ্য করলেও সেটা বিশ্ব নেতৃত্ব স্বীকার করতে নারাজ। বরং করোনাকালেও তারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিস্তার সৃষ্টিতে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়িয়েই যাচ্ছেন। তাই করোনার প্রভাব মূল্যবোধের জায়গা থেকে কতটুকু প্রভাব ফেললো তার হিসেবের চেয়ে মানুষের মধ্যে ক্রুরতা, হিংস্রতা ও স্বার্থপরতার বিস্তারে কতটা সহায়ক হলো সেটাই বিবেচ্য।
করোনাভাইরাস একটি বিষয় খুবই স্পষ্ট করেছে যে, মানব জাতি আর করোনা পূর্বকালে ফিরতে পারবে না। অনেক কিছুই বদলে ফেলেছে। এর মধ্যে মূল্যবোধের তাগিদ যেমন আছে, তেমনি ভীষণ স্বার্থপরতাও আছে। বিশ্ব কোনটাকে গ্রহণ করতে চায় নিশ্চয় সেটা ভবিষ্যতই বলে দিবে। কিন্তু একটি বিষয় মানব জাতির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এই বিশ্ব সকলেরÑএককভাবে এটি মানুষের নয়। প্রকৃতির যা কিছু আছে তার সবই এই পৃথিবীর অংশিদার। যেখানে অংশিদারিত্ব থাকে সেখানে ন্যায়্যতার প্রশ্নটি হেলায় অবহেলা করা যায় না। মানুষ বুদ্ধিমান জীব বটে কিন্তু মানুষই মুক্তির একমাত্র নিয়ামক নয়। সেটাই জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে যে, অতিক্ষুদ্র ভাইরাস আমাদেরকে হাঁটু ভেঙ্গে বসতে বাধ্য করেছে’। অর্থাৎ খালি চোখে অদৃশ্যমান একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাস মানবজাতিকে অসহায়-হতোদ্যম করে ছাড়লো। এটা মানব জাতির জন্য আগাম সতর্ক-সংকেত। বিশ্ব নেতৃত্ব যদি সতর্ক না হয় তা হলে এই পৃথিবী মানুষের জন্য বাসযোগ্য নাও থাকতে পারে। ‘ভঙ্গুর কঙ্কালটি’ সত্যিকার অর্থেই আর মজ্জা খুঁজে পাবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ