‘অতিথি ভবন’ কেনায় অনিয়ম হয় নি দাবি রাবি প্রশাসনের

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক



ঢাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবনের জমি কেনা নিয়ে অনিয়ম ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা বলছেন, সরকারি ক্রয় নীতিমালা-২০০৮ মেনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে ক্রয় করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন ক্রয় কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান।
প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের অস্বচ্ছতা ও বা দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয় নি। কয়েকটি পত্রিকায় এ বিষয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো আংশিক তথ্যনির্ভর, সামগ্রিকভাবে এই প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করা হয়নি অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন নিয়ে ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একটি ক্রয় কমিটি গঠন করে দেন। এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা মহানগরে অতিথি ভবনের জমিসহ ফ্ল্যাট ক্রয়ের পরপর দুইবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রথম পর্বে সুন্দরবন হোল্ডিংস-এর কাছে ৬ হাজার ৭৫০টাকা দরে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের দরপত্র বাতিল করার সুপারিশ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। এরপর পুনরায় অনুমোদন নিয়ে দ্বিতীয়বার টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে এলডোরাডো প্রোপারটিজ লিমিটেডকে সুপারিশ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। এরপর কাগজ যাচাই ও মতামত দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার পরামর্শ নেয়ার সুপারিশ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।
উপউপাচার্য বলেন, দরপত্রে দাখিলকৃত মালিকানা-কাগজপত্রে এলডোরাডো প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রকৃত জমির মালিকের চুক্তিপত্র না থাকায় প্রকৃতপক্ষে জমিতে প্রতিষ্ঠানটির (এলডোরাডো) মালিকানা থাকে না বলে আইন উপদেষ্টা মত দেন। এর মধ্যে জমির প্রকৃত মালিক খালিদ মাহমুদ পত্রের মাধ্যমে সরাসরি বিক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। পরে জমিসহ ফ্ল্যাট সরাসরি ক্রয়ের সুপারিশ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। পরে তা চলতি বছরের ২৪ আগস্ট ফাইন্যান্স কমিটির সভায় ও ২৮ আগস্ট সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন পায়। এরপর ৩১ আগস্ট এলডোরাডো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দরপত্র বাতিল করা হয়।
সরাসরি ক্রয়ের অনুমোদন নিয়ে ক্রয় কমিটি ঢাকায় ৩১ আগস্ট জমির মালিক খালিদ মাহমুদের সঙ্গে দর কষাকষির মাধ্যমে ১৩ কোটি ২৫ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে। যা ৬ সেপ্টেম্বর ফাইন্যান্স কমিটি ও সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত হয়। একই সিন্ডিকেটে সভায় চার ধাপে অর্থ প্রদান প্রক্রিয়া সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপ-উপাচার্য আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে জমি ক্রয় করেনি। বরং জমিসহ ফ্ল্যাট ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে জমির দাম নয় বরং বর্গফুট অনুযায়ী ফ্ল্যাটের দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় নীতিমালা-২০০৮ এর কোনও ধরনের ব্যত্যয় ঘটেনি। এই নীতিমালায় নির্দিষ্টভাবে কাজ, পণ্য ও সেবা ক্রয় সম্পর্কিত নিয়ামাবলী রয়েছে, তবে জমি-ফ্ল্যাট ক্রয়ের নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকলেও ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায়ের লক্ষ্যে পণ্যের আওতায় ফেলে দুইবার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতেও ব্যর্থ হয়ে সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যার মাধ্যমে সরকারি ক্রয়নীতির সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর মু. এন্তাজুল হক প্রমুখ।
তদন্ত দাবি শিক্ষক সমিতির : এদিকে গণমাধ্যমে অতিথি ভবনের জমি ক্রয়ে অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজের পাশাপাশি শিক্ষকদের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করে ব্যাখ্যা দাবি করছে রাবি শিক্ষক সমিতি। সোমবার দুপুরে এক সংবাদ বিফ্রিং-এ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ আজম এই দাবি করেন। এছাড়া যদি সন্তোসজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি।