অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে নেসকো ঘেরাও

আপডেট: জুন ২৭, ২০২০, ১০:১৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে নেমেছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড (নেসকো)। করোনাভাইরাসের অজুহাতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা চাপিয়েছে গ্রাহকদের কাঁধে। বিদ্যুৎ খরচের বেশি বিল করার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। তবে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ করোনাকে দায়ি করছেন। তারা বলছেন, ‘করোনার কারণে মিটার দেখতে পাইনি রিডাররা। তাই গড় বিল করা হয়েছে।’

 

 

গ্রাহকদের দাবি, বর্তমান মিটারের রিডিং ও বিগত কয়েক মাসের বিদ্যুৎ বিল পুনোরায় গড় করা দরকার। এছাড়া যাদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে সেগুলো দ্রুত সংশোধন করা। সম্ভব হলে বিদ্যুৎ বিল জমা দেয়ার আলাদা তারিখ বেধে দিতে হবে।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এনিয়ে শনিবার (২৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড (নেসকো) এর সাগারপাড়া কার্যালয় ঘেরাও করে গ্রাহকরা। এসময় গ্রাহকরা জানায়, ইউনিটের চেয়ে ডাবল বিল করা হয়েছে। নেসকো গ্রাহকদের জানিয়েছে, কয়েক মাসের বিল গড় করে বিদ্যুৎ বিল করার কথা জানায়। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিল করার সময় গড় বিল দেখা হয়নি। ইচ্ছে মতো বিল করা হয়েছে।

নগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বারি জানায়, বাড়িতে ভাড়া থাকলে বিদ্যুৎ বিল আসে ছয়শ’ থেকে সাতশ’ টাকা। বাড়িতে ভাড়া নেই দু’মাস থেকে। তবুও বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১২শ টাকা। তিনি আরও জানান, ফাঁকা বাড়িতে এতো বিল আসার কথা না। তবে ভাড়াটিয়ারা যেখন থাকতো তারাই বিদ্যুৎ বিল দিতো। ভাড়াটিয়ারা জানায়, এতো বিদ্যুৎ বিল কখনো আসেনি। বারি দাবি করেন, বিদ্যুৎ বিল নেসকোতে দেখানো হলে তারা মিটারের ইউনিট দেখতে চাচ্ছেন। এনিয়ে আবার বাড়িতে যেতে হচ্ছে। ফলে এক প্রকারের বিড়ম্বনা দেখা দিচ্ছে। কারো কারো অতিরিক্ত মিটারের ইউনিট দেখে তাহলে বিদ্যুৎ বিল ঠিক করে দিচ্ছেন তারা।

 

নগরীর তালাইমারী এলাকার বাসিন্দা ডলি জানায়, স্বামী অটোরিকশা চালায়। তিনি চাকরি করেন। বাড়ি পুরোই ফাঁকা। তাদের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১৮শ টাকা। যদিও এপ্রিল মাসে এই ভুক্তভোগির বিদ্যুৎ বিল আসে ৬০০ টাকা। এনিয়ে অনেকটাই বেকায়দার রয়েছেন বলে জানান তিনি ।
দেখা গেছে, শনিবার সকাল থেকে অর্ধশতাধিক মানুষ বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে আসেন নেসকোতে। এসময় তারা মিটারের ইউনিটের চেয়ে দ্বিগুন বিদ্যুৎ বিল করার কথা জানায়। মিটার না দেখে মনগড়া বিদ্যুৎ বিল দিয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে নেসকো গ্রাহকদের ভুলভাল বুঝিয়ে বিদায় করা হচ্ছে বলে গ্রাহকরা জানায়।

নেসকোর সাগরপাড়া এলাকার নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার দাস জানায়, করোনার লকডাউনের কারণে মিটার দেখা সম্ভব হয়নি। তাই গড় বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে। নিজেদের কর্মীদের বিদ্যুৎ বিল করা নিয়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভুল হতে পারে। বিষয়টি আমরা দেখছি।