অনন্য রেকর্ডে সাকিবের ‘শিকার’ যারা

আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


জশ হ্যাজেলউডের ব্যাট ছুঁয়ে বল শর্ট লেগে থাকা ইমরুল কায়েসের তালুবন্দি হতেই উল্লাসে মেতে উঠলেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের নাম ঢুকে পড়লো রেকর্ডবুকে। দুই মাস আগে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান টেস্ট স্ট্যাটাস পেলেও এখনও পাঁচ দিনের ক্রিকেট খেলার সুযোগ পায় নি। বাকি ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে প্রত্যেক দলের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এতদিন ছিল মাত্র তিন জনের। শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন ও রঙ্গনা হেরাথ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইনের পাশে এখন শোভা পাচ্ছে সাকিবের নাম।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট তারকার ১১ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ার বহু অর্জনে সমৃদ্ধ। ৫০তম টেস্টে আরেকটি অর্জন যে হাতছানি দিচ্ছে, তা শুধু জানতেনই না, সাগ্রহে অপেক্ষাও করছিলেন এর জন্য। গত বৃহস্পতিবার নিজেই বলেছিলেন, ‘আমার সামনে এখন প্রত্যেক দেশের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের সুবর্ণ সুযোগ। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে প্রথম ইনিংসেই সাকিব সফল। ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের পর বাঁহাতের ঘূর্ণিজাদুতে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন কাক্সিক্ষত লিড। সাকিবের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স মানেই টাইগারদের জয়ের পথ সুগম হওয়া। ৫০তম টেস্টেও জ্বলে উঠে দলকে অসাধারণ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিনি।
অনন্য কীর্তি গড়ার পথে সাকিব যাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন, এক নজরে দেখে নেয়া যাক তাদের নাম।
জিম্বাবুয়ে : তিনবার (মিরপুর ও খুলনা) : টেস্ট ক্রিকেটের নবম সদস্যের বিপক্ষে সাকিব সবচেয়ে সফল। ২০১৪ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, এলটন চিগুম্বুরা, রেজিস চাকাভা, জন নিয়ুম্বু, তিনাশে পানিয়াঙ্গারা ও তাফাদজাওয়া কামুনগোজিকে ফিরিয়ে দেন ৫৯ রানের বিনিময়ে।
খুলনায় পরের টেস্টে আবার সাকিবের ‘দুরন্ত ঘূর্ণি’। ওই ম্যাচের দুই ইনিংসেই ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে আউট করেন ব্রেন্ডন টেলর, ক্রেইগ আরভিন, চিগুম্বুরা, মাসাকাদজা ও ম্যালকম ওয়ালারকে। দ্বিতীয় ইনিংসে টেলর, মাসাকাদজা ও চিগুম্বুরার সঙ্গে শিকারের তালিকায় যোগ করেন সিকান্দার রাজা ও নাতসাই এম’শাঙওয়ের নাম।
নিউজিল্যান্ড : দুবার (চট্টগ্রাম ও মিরপুর) : ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট শিকারের আনন্দে মেতে ওঠেন সাকিব; নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৬ রান খরচায় তুলে নেন ৭ উইকেট। সেবার তিনি ফিরিয়ে দেন অ্যারন রেডমন্ড, জেমি হাউ, জেসি রাইডার, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, জ্যাকব ওরাম, কাইল মিলস ও ইয়ান ও’ব্রায়েনকে।
৫ বছর পর মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে কিউইদের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার কীর্তিটা গড়ার পথে সাকিব তুলে নেন হামিশ রাদারফোর্ড, পিটার ফুলটন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, রস টেলর ও ডগ ব্রেসওয়েলের উইকেট। ওই ইনিংসে তার বোলিং ফিগার ছিল ৪৩-১৩-১০৩-৫।
দক্ষিণ আফ্রিকা : দুবার (ব্লুমফন্টেইন ও সেঞ্চুরিয়ান) : বিদেশের মাটিতে সাকিবের প্রথম ৫ উইকেট শিকার দক্ষিণ আফ্রিকায়। ২০০৮ সালের নভেম্বরে ব্লুমফন্টেইনে ১৩০ রানের বিনিময়ে তিনি একে একে ফিরিয়ে দেন জ্যাক ক্যালিস, এবি ডি ভিলিয়ার্স, মার্ক বাউচার, মর্নে মরকেল ও ডেল স্টেইনকে।
পরের ম্যাচে আবার বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ‘স্পিন ম্যাজিক’। সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে ৬ উইকেট নেওয়া সাকিবের শিকার ছিলেন হাশিম আমলা, ক্যালিস, ডি ভিলিয়ার্স, বাউচার, মর্নে মরকেল ও মন্ডে জন্ডেকি।
শ্রীলঙ্কা : দুবার (মিরপুর ও চট্টগ্রাম) : কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, তিলকারত্নে দিলশান, ধাম্মিকা প্রসাদ ও থিলান সামারাবীরাকে আউট করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের উল্লাসে মেতে ওঠেন সাকিব। কীর্তিটা ছিল ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে, মিরপুর স্টেডিয়ামে। সেজন্য তার খরচ ছিল ৭০ রান।
৬ বছর পর আবার সাকিবের ঘূর্ণিতে শ্রীলঙ্কা বিধ্বস্ত। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে ১৩৪ রানে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পথে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন দীনেশ চান্ডিমাল, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, দিলরুয়ান পেরেরা, অজন্তা মেন্ডিস ও সুরঙ্গা লাকমলকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : দুবার (সেন্ট জর্জেস ও মিরপুর) : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমবার পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি তাদেরই মাঠ সেন্ট জর্জেসে। ২০০৯ সালে ৭০ রান খরচ করে তুলে নিয়েছিলেন ডেল রিচার্ডস, ওমর ফিলিপস, রায়ান হাইন্ডস, চ্যাডউইক ওয়ালটন ও টিনো বেস্টের উইকেট। এরপর ২০১১ সালে মিরপুরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৫ উইকেট নেওয়ার পথে শিকার করেন কেমার রোচ, কার্লটন বাফ, ড্যারেন স্যামি, কার্ক এডওয়ার্ডস ও ফিদেল এডওয়ার্ডসকে।
ইংল্যান্ড : দুবার (ম্যানচেস্টার ও চট্টগ্রাম) : ২০১০ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম ইংল্যান্ড সফরেই জ্বলে ওঠেন সাকিব, ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে আউট করেন কেভিন পিটারসেন, ইয়ান বেল, আজমল শেহজাদ, ম্যাট প্রায়র ও স্টিভেন ফিনকে। গত বছর চট্টগ্রামে জো রুট, বেন ডাকেট, মঈন আলী, বেন স্টোকস ও আদিল রশিদকে আউট করে ইংলিশদের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করেন সাকিব।
ভারত : একবার (চট্টগ্রাম) : ২০১০ সালে চট্টগ্রামে বীরেন্দর শেবাগ, ভিভিএস লক্ষ্মণ, যুবরাজ সিং, জহির খান ও শ্রীশান্তের উইকেট নিয়েছিলেন ৬২ রানের বিনিময়ে।
পাকিস্তান : একবার (মিরপুর) : ২০১১ সালে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮২ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব; ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আজহার আলী, মিসবাহ-উল-হক, আব্দুর রেহমান, উমর গুল, সাঈদ আজমল ও আদনান আকমলকে।
অস্ট্রেলিয়া : একবার (মিরপুর) : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে প্রথম দেখাতেই সাকিব সফল। মিরপুরে নাথান লায়ন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাট রেনশ, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউড ফিরিয়ে তিনি টাইগারদের এনে দিয়েছেন মূল্যবান ৪৩ রানের লিড। সেই সঙ্গে নাম লিখেছেন সব দলের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের ছোট্ট তালিকায়।-বাংলা ট্রিবিউন