অনিল মারান্ডির মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২৩, ৯:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আদিবাসীদের অধিকার আদায়ে আজীবন সংগ্রামী জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অনিল মারান্ডির মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপির পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়েছে।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাটের পাঁচগাছিয়া-লালমাটিয়া গ্রামে অনিল মারান্ডির সমাধিতে আদিবাসী পরিষদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা এই শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। পর্যায়ক্রমে পার্টি ও পরিষদসহ অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একটি স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সহ-সভাপতি খ্রিষ্টিনা বিশ্বাস।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা ও রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গনেশ মার্ডি, আদিবাসী নেতা বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, রাজকুমার সাও, নরেন পাহান, প্রদীপ লাকড়া, আনোয়ার হোসেন, অনিল মারান্ডির সহধর্মিণী ইস্তিনা মর্মু, নন্দলাল ওঁরাও, উপেন রবিদাস প্রমুখ। সভাটি পরিচালনা করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম।
এদিকে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অনিল মারান্ডী এর ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকীতে শোক র‌্যালী , শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও আলোচনা সভা আজ ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, সকালে পাঁচগাছিয়া লালমাটিয়া, কাঁকনহাট, গোদাগাড়ী রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে শেওড়াপাড়া মোড় থেকে শোক র‌্যালী পাঁচগাছিয়া লালমাটিয়া গ্রামে অনিল মারান্ডী’র সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে গ্রাম পর্যন্ত র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য খ্রিষ্টিনা বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) গনেশ মার্ডি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, মুখপাত্র ও দপ্তর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, কেন্দ্রীয় সদস্য রাজকুমার শাও, রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, নাটোর জেলা সভাপতি প্রদীপ লাকড়া, নওগাঁ জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মার্টিন মুর্মূ, গোদাগাড়ী উপজেলার সভাপতি বরীন্দ্রনাথ হেমব্রম প্রমুখ্য নেতৃবৃন্দ।
এদিকে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অনিল মারান্ডী এর ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকীতে অনিল মারান্ডী’র সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও রাজশাহী -২ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা ফজলে হোসেন বাদশা’র পক্ষে উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু সহ আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা।
অনিল মারান্ডী’র সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে তার আত্মার শান্তি কামনা করে ১মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে একটি স্মৃতি চারণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় পাঁচগাছিয়া লালমাটিয়া গ্রামে।
উক্ত স্মৃতি চারণ আলোচনা সভায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য খ্রিষ্টিনা বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে ও মুখপাত্র ও দপ্তর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম এর সঞ্চলনায় অংশ গ্রহণ করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) গনেশ মার্ডি, উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু ,জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, কেন্দ্রীয় সদস্য রাজকুমার শাও, রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, নাটোর জেলা সভাপতি প্রদীপ লাকড়া, নওগাঁ জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মার্টিন মুর্মূ, গোদাগাড়ী উপজেলার সভাপতি বরীন্দ্রনাথ হেমব্রম, সাবেক সভাপতি নন্দলাল টুডু, সাধারণ সম্পাদক সোনাবাবু হেমব্রম, পতিœতলা কমিটির আহবায়ক পরেশ টুডু, বাগাতিপাড়া উপজেলার সভাপতি সত্যেন বাগদি, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি উপেন রবিদাস, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সহ- সভাপতি সাবিত্রী হেমব্রম, সাধারণ সম্পাদক তরুন মুন্ডা, আদিবাসী যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য উত্তম মাহাতো,আদিবাসী ছাত্র পরিষদের নওগা জেলা সভাপতি মিঠুন পাহান, নাটোর জেলা আহবায়ক সুজল পাহান,গ্রামবাসী লালন হেমব্রম, বাবলু হাসদাঁ, মানুয়েল হেমব্রম, আদিবাসীদের বন্ধু আনোয়ার হোসেন।
স্মৃতিচারণ করতে বক্তারা বলেন, অনিল মারান্ডী’র শুধু জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নেতা ছিলেন না, তিনি সারা বাংলাদেশের আদিবাসীদের নেতা ও সংগঠন ছিলেন। আলোচনা সভা থেকে দাবি উঠেছে অনিল মারান্ডী’র একটি মোড়াল কাঁকনহাটে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি নিজের পরিবারের দিকে দেখেন নি, অর্থর লোভ করেন নি, তিনি শুধু আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে প্রতিষ্ঠিত করতে সারা দেশে ছুটে বেড়িয়ে সংগঠিত করেছেন। আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি। সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক স্বাধীন ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠনের আন্দোলন ও সংগ্রাম এবং সমতল অঞ্চলের আদিবাসীঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও সংগ্রামের গড়ে তুলেন অনিল মারান্ডী। আদিবাসীদের বর্তমান রাজনৈতিক ও সমাজিক গুণগতমান পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেছেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ