অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যান-ইউপি সদস্যসহ ১১ জন বরখাস্ত

আপডেট: June 17, 2020, 10:41 pm

সোনার দেশ ডেস্ক:


প্রধানমন্ত্রীর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নগদ অর্থ সহায়তা, হতদরিদ্র জনসাধারণের জন্য বরাদ্দ করা চাল আত্মসাৎ এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে এক চেয়ারম্যান এবং ১০ জন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বুধবার (১৭ জুন) এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম মিয়া এবং জেলার সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফরিদা বেগমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়া, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র জনসাধারণের জন্য বরাদ্দ করা চাল আত্মসাৎ, উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মনিরুল ইসলাম ও ৮ নং ওয়ার্ডের আসো মো. আবুল কালাম, মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার ৮ নং নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য কাঞ্চন মিয়া, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলাধীন ৪ নং কুমারগাতা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মফিজুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাধীন রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য রইছ উদ্দিন, জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলাধীন বম্বু ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য পারভীন আক্তার ও ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. লোকমান হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার গোমস্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য মুসলেমা বেগম এবং নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলাধীন ৬ নং চরকিং ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইকবালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লিখিত সদস্যদের সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রমের জন্য স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া সদস্যদের পৃথক পৃথক কারণ দর্শানো নোটিশে কেন তাদেরকে চূড়ান্তভাবে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে না, তা জবাবপত্র পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০০ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এদের মধ্যে ৩০ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৬৪ জন ইউপি সদস্য, ১ জন জেলা পরিষদ সদস্য, ৪ জন পৌর কাউন্সিলর এবং ১ জন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি