অনুকূল আবহাওয়ায় আলুর ফলন বৃদ্ধির প্রত্যাশা

আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০২০, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


দিনে পরিমিত রোদ সঙ্গে রাতের কুয়াশা; নেই পোকা, ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ-সর্বোপরি এ বছর আলু চাষের অনুকূল আবহাওয়া থাকায় আলুর ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন চাষীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর। লাভের আশা নিয়ে এখন আলু খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। সেই সঙ্গে করোনা পরিস্থিতিতে কোনো কারণে যেন আবাদের কোন ক্ষতি না হয় সেই লক্ষ্যে আলু খেত পরিদর্শনেও ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে কৃষি অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
এ বছর রাজশাহীতে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আর প্রতি হেক্টরে আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন। সর্বোমোট ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন। এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এ বছর অধিক উৎপাদন হবে বলে নিশ্চিত করেছে, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
দূর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়ার আলুচাষি আশরাফ আলী জানান, তিনি ৩৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে এবার আলু চাষ করেছেন। শুরু থেকে এবার যেন ভাগ্য সহায়। আলু গাছের চেহারা অনেক ভাল। এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়নি। তাছাড়া তার জমির আলুসহ আশে পাশের প্রায় সব আলুর খেত এবছর এখন পর্যন্ত অনেক ভালোই দেখছেন তিনি।
দুর্গাপুর কৃষি অফিস জানায়, উপজেলায় চলিত মৌসুমে এবার ১ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকেলেও বেশি জমিতে বেশি আলুর চাষা হয়েছে। দুর্গাপুর পৌর এলাকার শালঘরিয়া গ্রামের আবদুস সামাদ জানান, তিনি প্রায় ১ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন। উচ্চ দামে আলু বীজ ক্রয় করে আলু রোপণ করেছেন। শুরুতেই আলুর গাছের পরিপক্বতা দেখে খুব ভাল মনে হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এবার গতবারের চেয়ে লাভের অংক একটু বেশি হবে।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান জানান, উপজেলার আলুচাষিরা এখন নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছে। উপজেলায় প্রায় এলাকায় এবার আলুর খেত ভাল হয়েছে। তাছাড়াও এবার এখন পর্যন্ত বৈরি আবওহায়া না হওয়ায় চালুচাষিরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। দুর্গাপুর কৃষি অফিসসহ মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক আলু চাষীদের সহায়তাও প্রদান করছেন।
মোহনপুর উপজেলার ধুরইল গ্রামের কৃষক আনিস বলেন, আমি প্রতিবছর ৩ থেকে ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করি। গত বছরের আলুর ভাল দাম পাওয়ার কারণে এবছর প্রায় ৬ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। আমার জমির আলু গাছ এখন পর্যন্ত ভাল আছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাকছুল হক জানান, এ বছর রাজশাহীতে আলু আবাদের উপযোগী আবহওয়া রয়েছে। দিনে পরিমিত রোদ পড়ছে। আবার রাতের কুয়াশা। এতে আলু গাছের গ্রোথ ভালো। এছাড়া এখন পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের আক্রমণ দেখা যায়নি। আশা করছি এবার আলুর উৎপাদন ভালো হবে। (প্রতিবেদনটি তৈরি করতে সহায়তা করেছেন আমাদের মোহনপুর ও দুর্গাপুর প্রতিনিধি)।