অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ ।। ‘বাবা আমাকে নিয়ে যাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’

আপডেট: জুন ২০, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

তানোর পৌর প্রতিনিধি


পিতার অভাবী সংসার। এসএসসির ফরম পূরণের টাকা জোগাড় না হওয়ায় দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা অবস্থায় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় রুকাইয়া খাতুন বিউটিকে (১৮)। প্রায় সাত মাস আগে বিয়ে হয় তার। বিয়ের সময় জামাই মেহেদী হাসানকে বাইসাইকেল ও ঘড়ি ছাড়া কিছুই দিতে পারেন নি বিউটির দিনমজুর পিতা রবিউল ইসলাম। একারণে প্রায়ই বিউটিকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে গত রোববার রাতে বিউটি তার স্বামীর মোবাইল ফোন থেকে বাবাকে জানায়, ‘বাবা আমাকে নিয়ে যাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’। মেয়ের এই আর্তনাদ শুনে ভেঙে পড়েন পিতা। কিন্তু রাত পোহাতেই সকালে শোনেন মেয়ে মারা গেছে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে মেয়েকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন নির্যাতন করে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে পরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। মেয়ের মৃত্যুর এ ধরনের নির্মম কাহিনি এভাবে জানালেন দিনমজুর পিতা রবিউল ইসলাম।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন এলাকার বনকেশর ফকিরপাড়া গ্রামে। এঘটনায় নিহতের পিতা রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে জামাই মেহেদী হাসান ও তার পিতা সামশুদ্দিনসহ পরিবারের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ স্বামীর বড় ভাই মিলন হোসেন ও তার স্ত্রী শাহিদা আরবীসহ সৎশ্বাশুড়ি মজিদা বিবিকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার বিবরণে ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার চুনিয়াপাড়া মহল্লার রবিউল ইসলামের মেয়ে বিউটির বিয়ে দেন একই উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন এলাকার বনকেশর ফকিরপাড়া গ্রামের সামশুদ্দিনের দ্বিতীয় ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গে।
নিহতের সৎশ্বাশুড়ি মজিদা বিবি বলেছেন, তার ছেলে বউ কোন কারণ ছাড়াই ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে নিহতের বাবা বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিউটি নিহতের ঘটনা সন্দেহজনক। একারণে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ