অপমৃত্যু

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

ড. মির্জা গোলাম সারোয়ার পিপিএম


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
সকাল ৬ টার সময় মোটর সাইকেল যোগে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে সেখানে পৌঁছানোর ১ মাইল আগেই এক জায়গায় মোটর সাইকেল রেখে পায়ে হেঁটে বিলের ভেতরে যাই। ঘটনাস্থল তখনও ৩০০ গজ দূরে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানো সম্ভব না। দুর্গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। মৃত্যুর পরে দেহের রং পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে পচনের ফলে সালফার জাতীয় গ্যাস সৃষ্টি হয়, যার কারণে মৃত দেহ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস ছড়ায়। সেগুলো হলো সালফিউরেটেড হাউড্রোজেন, অ্যামোনিয়া ফসফোরেটেড হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ইত্যাদি। যুবতীর পচা লাশের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছিলো। পচনের ফলে মৃতু দেহ থেকে সৃষ্ট গ্যাসের চাপে মৃত দেহের চেহারায় মারাত্মক বিকৃতি ঘটতে পারে। যে কারণে অনেক সময় মৃতদেহ সনাক্তকরণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেমনটি হয়েছিল অজ্ঞাতনামা যুবতীর পচা লাশের ক্ষেত্রে।
আমাকে দেখে ফোর্স ও ডোমরা এগিয়ে আসে। প্রত্যেকের চেহারা বিধ্বস্ত। সারারাত এই নির্জন বিলে জেগে লাশ পাহারা দেয়ায় ঘুমে তাদের চোখ ছোট হয়ে আসছিলো। আমি তাদের সাথে পচা লাশ নিয়ে কথা বলি। ইতোমধ্যে ৪/৫ জন লোক সেখানে এসে জমায়েত হয়। লাশের পচা গন্ধে প্রত্যেকের বমি হবার উপক্রম। সবার নাকে রুমাল বাঁধা। কাছে গিয়ে লাশের বিভৎস চেহারা দেখে এবং দুর্গন্ধে আমি টিকতে না পেরে দূরে চলে আসি। প্রতি ১০০ হাত পর পর ১ জন করে ডোম নিয়োগ করি। অর্থাৎ পচা লাশের কাছে প্রথম ডোম। তারপরে ১০০ হাত দূরে দ্বিতীয় ডোম। তার ১০০ হাত দূরে তৃতীয় ডোম নিয়োগ করি। তৃতীয় ডোম থেকে আরও ১০০ হাত দূরে আমি কাগজ কলম নিয়ে অবস্থান করি। প্রথম ডোম লাশ দেখে ১০০ হাত দূরে দ্বিতীয় ডোমকে জোরে বলে, চুল কালো, হালকা গড়ন ইত্যাদি। এ কথা শুনে দ্বিতীয় ডোম ১০০ হাত দূরে তৃতীয় ডোমকে ওই কথাগুলি জোরে জোরে বলে। অতঃপর তৃতীয় ডোম ১০০ হাত দূরে অবস্থানরত আমাকে জোরে জোরে ওই বর্ণনাগুলি বলে আর তা শুনে আমি লাশের সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করি। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত হওয়ার পর আমি পুনরায় পচা দুর্গন্ধময় লাশের কাছে গিয়ে বর্ণনাগুলি মিলিয়ে নেই। যুবতীর পচা অর্ধগলিত লাশটি দেখে প্রতীয়মান হয় সম্ভবতঃ তাকে কোন জায়গা থেকে অপহরণ করে এনে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করে এই দুর্গম ও নির্জন বিলের মধ্যে ফেলে রেখেছে।
মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করার পর তাতে দুজন সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ করি এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ (৩) ধারা এবং পিআরবি ৩০৪ ও ৩০৫ নিয়মানুযায়ী অজ্ঞাত যুবতীর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশ সুরতহাল রিপোর্ট সহ স্কটের মাধ্যমে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করি। অতঃপর প্রকাশ্য ও গোপনে মৃতের ব্যাপারে তদন্ত করি। তদন্তকালে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬১ ধারা এবং পিআরবি ২৬৫ নিয়মানুযায়ী সাক্ষিদের জিজ্ঞাসাবাদপূর্বক তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করি। মৃতা যেহেতু অজ্ঞাত পরিচয় এবং বেওয়ারিশ সেহেতু পিআরবি ৩১৩ নিয়মানুযায়ী মৃতার লাশের আঙ্গুলের ছাপ যথাযথভাবে গ্রহণ করি এবং পিআরবি ৩১৪ নিয়মানুযায়ী ছবি তুলে সংরক্ষণ করি। যুবতীর হত্যাকারীদের সনাক্তকরণের জন্য এবং মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটনকল্পে সাক্ষ্য আইনের ৭ ও ২৭ ধারা মোতাবেক সাক্ষ্যের জন্য সংগৃহিত আলামত বিপি ফরম নং ৪৪, বাংলাদেশ ফরম নং ৫২৭৬, ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১০৩ (২) উপধারা এবং পিআরবি ২৮০ নিয়মানুযায়ী  সিজার তালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করি। অপমৃত্যু মামলাটি তদন্তে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। টমাস মুলারের মতে, “কষ্ট থেকে উৎসারিত আনন্দের কোন তুলনা নেই। মোতাবেক জব্দ করে হেফাজতে নেই। এবং পিআরবি ২৭৩ নিয়মানুযায়ী ঘটনাস্থলের খসড়ামানচিত্র তৈরি করি।
আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করতে দুপুর হয়ে যায়। দুপুর ২ টার সময় থানায় ফিরে ওসিকে বিস্তারিতভাবে মামলার তদন্ত ও লাশের ব্যাপারে জানিয়ে বাসায় ফেরার পথে দেখি ওই অফিসাররা মুখ কালো করে বসে আছে। তারা ভেবেছিলেন, আমি তদন্ত না করে তদন্ত অফিসার পরিবর্তনের জন্য তাদের কাছে গিয়ে তোষামোদ করবো। কিংবা যেহেতু আমি নতুন এবং প্রথম অপ-মৃত্যু মামলা তদন্ত করছি সেহেতু তোয়াজ করে তাদের সহযোগিতা কামনা করবো। কিন্তু আমি কিছুই করিনি। বরং সফলভাবে পচা লাশের সুরতহাল করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। আমার সফলতায় ওসি খুশি হয়ে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানান। পুলিশ সুপার খুশি হয়ে আমাকে পুরস্কার প্রদান করবেন বলে জানান এবং তাঁর অফিসে যাওয়ার জন্য ওসির মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করেন। এসব কথা শুনে বিরূপ মন্তব্যকারী অফিসারদের মুখ কালো হয়ে যায়। সবাই মন খারাপ করে বসে থাকে। একজন অফিসার তো অসুস্থ হয়ে ছুটিতে চলে যান। কনস্টেবলরা সবাই মিলে মিষ্টি কিনে এনে থানার মধ্যে বিতরণ করে। কিছু মিষ্টি ওই সমস্ত অফিসারদের বাসাতেও পাঠায়। মরার উপর খাড়ার ঘা। লজ্জায় তারা মুখ দেখাতে পারে না। পিআরবি ৩৬৯, ৩৭০ নিয়মানুযায়ী সাপ্তাহিক চৌকিদারি প্যারেডে দফাদার ও চৌকিদারদেরকে অজ্ঞাত পরিচয় যুবতীর লাশ সম্পর্কে জ্ঞাত করিয়ে তাদের নিজ নিজ এলাকায় কোন যুবতীর নিখোঁজ হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে তথ্য সরবরাহের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছিলাম।
পরের দিন সকাল ১০ টায় ভাল পোশাকে আমি পুলিশ সুপার মহোদয়ের অফিসে গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাত করি। তিনি আমার ভাল-মন্দ খোঁজ খবর নিয়ে পুনরায় অজ্ঞাতনামা যুবতীর পচা লাশের আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হন এবং একজন নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে সাহসী পদক্ষেপের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং  “এঝ সধৎশ  ” (এড়ড়ফ ঝবৎারপব সধৎশ) প্রদানের পাশাপাশি প্রাইজ পোস্টিং হিসাবে বোয়ালিয়া থানায় পোস্টিং করেন। এ সময়ে আমার মনে পড়ে জনওয়েবস্টারের কথা। তিনি বলেছেন, “আন্তরিকতার সাথে যে কাজ হয় তা সত্যিই সুন্দর”। আসলেও আমি অজ্ঞাত যুবতীর অপমৃত্যু মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলাম। অপমৃত্যু মামলা সংক্রান্ত অফিসারদের আচরণ আমার জন্য যথেষ্ট বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমি বেদনাকে কিছু মনে করিনি। কারণ টমাস মুলারের মতে, “বেদনা থেকে যে আনন্দের উৎপত্তি হয়, সে আনন্দের তুলনা নেই।” তাই তো অপমৃত্যু মামলা তদন্তের দায়িত্বভার পাওয়ার পর মনে বেদনার উদ্রেক হলেও পুলিশ সুপার কর্তৃক ধন্যবাদ, পুরস্কার এবং ভাল পোস্টিং পাওয়ার আনন্দে বিমোহিত হয়েছিলাম। আমি থানায় আসার আগেই থানার অফিসার এই সংবাদ জেনে যান। থানায় পৌঁছার সাথে সাথে কনস্টেবলা ভাল পোস্টিং এর জন্য পুনরায় আমাকে মিষ্টি মুখ করান। অফিসারদের দেখে বুঝতে পারি তারা মুখে জোর করে হাসি বজায় রাখলেও হিংসায় তাদের অন্তর জ্বলে যাচ্ছিলো। আমি মনে মনে তখন গাইছিলাম … “নীল আকাশের নীচে আমি রাস্তায় চলেছি একা…”।
পুলিশ সুপারের তাগিদের পর কয়েকদিনের মধ্যে আমাকে ঘটা করে ফেয়ারওয়েলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। যে দুজন অফিসার সবসময় আমার সমালোচনা এবং চক্রান্তে ব্যতিব্যস্ত থাকতো, বিদায় অনুষ্ঠানে ওই দুই অফিসার তাদের দীর্ঘ ভাষণে আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। এমনকি বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারা কেঁদেও ফেলেন। আমি মনে মনে ভাবি, এ কান্না লোক দেখানোর মেকি কান্না নয় তো? কারণ ভূতের মুখে রামের নাম কি শোভা পায়? অনুষ্ঠানের শেষের দিকে হঠাৎ বেতার চালক আমার পাশে বসা ওসির কাছে এসে স্যালুট দিয়ে একটি বার্তা দেন। তিনি বক্তব্য প্রদানকারী ওই দু’অফিসারকে ডেকে নিচু স্বরে কী যেন বলেন, সাথে সাথে দু অফিসার হতাশ হয়ে চেয়ারে বসে পড়েন। তাদের চোখের কোণে পানি জমে যায়। এবার সত্যি সত্যি তারা কাঁদছেন। এ কান্না দুঃখের কান্না, এ কান্না ব্যথার কান্না। ও. স কে এর কারণ জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন, দু’জনের মধ্যে একজনের রাঙ্গামাটি এবং আরেক জনের ঢাকা টেলিকমে শাস্তিমূলক বদলি হয়েছে। বার্তা পাওয়া মাত্রই স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছেন। এ কথা শুনে আমার দু’চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে। তবে তা আনন্দ্রাশ্রু। মনের সুখে মনে মনে নিরবে গাইতে থাকি …“ এই করোছো ভাল নিঠুর হে, এই করোছো ভাল”…। আসলে তাই, প্রতিটি কাজের অবশ্যই মূল্যায়ন হয়ে থাকে। আমার এবং তাদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমি প্রতিটি মুহূর্তে তাদের কথা বার্তায় অপমানিত হতাম। অথচ শেখ সাদীর মতে, “মানুষকে অপমান করো না, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব”। ইসলাম ধর্ম অনুসারেও তাই।
কর্তিত জখম হত্যামূলক, আত্মহত্যামূলক এবং দুর্ঘটনামূলক হতে পারে। তদন্তকালীন অজ্ঞাত পরিচয় যুবতীর মৃত দেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া গেলেও গলায় পচন না ধরায় বোঝা যায় তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সাধারণত অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যে, অবৈধ লাভ, প্রতিহিংসা বা পূর্বশত্রুতার কারণে কোন ব্যক্তিকে গলাকেটে হত্যা করলে তাকে হত্যামূলক গলাকাটা বলা হয়। দ-বিধি ৩৪, ১০৯, ৩০০ ও ৩০২ ধারা। হত্যামূলক গলাকাটায় সাধারণ গলার নিচের দিক কাটা থাকে নিচ থেকে উপরের দিকে। হত্যামূলক গলাকাটার ক্ষেত্রে গলার উভয় পাশের রক্তনালি সমূহ কাটা থাকে। হত্যামূলক গলাকাটায় গলায় জখম ছাড়াও শরীরের অন্যস্থানে ক্ষত চিহ্ন থাকে। হত্যামূলক গলাকাটার জখমের সময় যাতে আওয়াজ না করতে পারে সে জন্য মুখ চেপে ধরার কারণে মুখে বা মুখম-লে ক্ষতচিহ্ন থাকতে পারে। হত্যামূলক গলাকাটায় নিহত ব্যক্তির আশে-পাশে কোন অস্ত্র পাওয়া যাবে না। হত্যামূলক গলাকাটায় নিহত ব্যক্তির হাত পা বা মুখ বাধা অবস্থায় পাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে অজ্ঞাত পরিচয় যুবতীটিকে অপহরণপূর্বক ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।
পিআরবি ৬৩৫ নিয়মানুযায়ী হত্যাকা- সংঘটিত ঘটনাস্থলের সংরক্ষণ করতে হবে। যেমন-হাত বা পায়ের ছাপ, বীর্য, বীর্য মিশ্রিত বস্তু, রক্ত,  রক্ত মাখা দা বা চাকু, মাটি, স্যান্ডেল, জুতা, কাপড়-চোপড়, কসমেটিক, চুল, দলিল, কাগজ, হস্তাক্ষর, খাদ্য বা সিগারেটের শেষাংশ বা অন্য কোন আলামত ইত্যাদি জব্দ তালিকায় সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করে স্থান সময় উল্লেখপূর্বক উপস্থিত সাক্ষিদের পূর্র্ণ ঠিকানাসহ দস্তখত গ্রহণ করতে হবে। পরে তা নির্ধারিত আদালতে প্রেরণ করতে হবে। সাক্ষ্য আইনের ৪৫, ৪৬ ও ৪৭ ধারা এবং পিআরবি ২৯৭ নিয়মানুযায়ী উল্লিখিত ক্রাইমসিনের বিষয়গুলো বিশেষজ্ঞের মতামতের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। মৃতদেহের ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করে পার্শ্ববর্তী থানাগুলোতে বিপি ফরম নং ৭৬ ও ৭৭ এবং পিআরবি ৩৮৯ নিয়মানুযায়ী দ্রুততার সাথে অনুসন্ধান পত্র ও বেতার বার্তা প্রেরণ করতে হবে। বিপি ফরম নং ৩৮, ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৭২ ধারা এবং পিআরবি ২৬৩ নিয়মানুযায়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট সমগ্র ঘটনা বর্ণনা করে সুরতহাল রিপোর্টসহ সমস্ত কাগজপত্র এসসিডি-এর মাধ্যমে দাখিল করতে হবে। যা আমি অজ্ঞাত পরিচয় যুবতীর অপমৃত্যু মামলা সংক্রান্তে সম্পন্ন করেছিলাম। হত্যার ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলের যে জায়গায় মৃত দেহ পড়ে থাকে সেখান থেকেই তল্লাশি শুরু করতে হবে। প্রথমেই সুপ্ত আঙ্গুলের ছাপ খুঁজতে হবে। প্রতিটি বস্তুগত সাক্ষ্যের অবস্থান কোন একটি স্থির বিন্দু থেকে পরিমাপ করে নিতে হবে। পিআরবি ৬৩৫ নিয়মানুযায়ী তল্লাশির পূর্বে অবশ্যই অকুস্থলের একাধিক আলোকচিত্র নিতে হবে। নিয়ম মেনে আমি প্রতিটি কার্যাদিই সম্পন্ন করেছিলাম।
জীবনের পরিসমাপ্তি হলো মৃত্যু। হোক তা স্বাভাববিক অথবা অস্বাভাবিক বা অপমৃত্যু। প্রাণীদেহের সকল প্রকার জীবন্ত প্রক্রিয়া বিলুপ্ত হয়ে জীবকোষের সকল কর্মশক্তি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে জীবনের অবসান ঘটে। প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তবে অস্বাভাবিক বা অপমৃত্যু নয়, স্বাভাবিক মৃত্যুই সবার কাম্য। ফ্রান্সিস বেকনের মতে, “মৃত্যুটা জন্মানোর মতোই স্বাভাবিক”। ডানিয়েল ডিবেলের মতে, “মৃত্যুর দরজা সবসময়ই খোলা থাকে, বন্ধ করার কোন ব্যবস্থা নাই”। আবু জাফর শামসুদ্দীনের মতে, “যা অবশ্যম্ভাবী, তা নিয়ে দুর্ভাবনার কোন মানে হয় না। মৃত্যু সেই অবশ্যম্ভাবী বিষয়”। পরিশেষে একমাত্র কাম্য, আমাদের সবার মৃত্যুটা যেন স্বাভাবিক হয়। কখনো অস্বাভাবিক বা অপমৃত্যু নয়।
লেখক : পুলিশ কর্মকর্তা (অব:) (আই.জি ব্যাজ, জাতিসংঘ ও রাষ্ট্রপতি পদক প্রাপ্ত)