অপরাধে জড়িতরাই একাডেমির শিক্ষক সাত শিক্ষক ফৌজদারি মামলার আসামি, একজনের নামে ১৪ মামলা

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২০, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী মসজিদ মিশন একাডেমি শিক্ষকদের বেশ ক’জনের নামে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন মামলা রয়েছে। এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে। মামলাগুলো নগরীর বিভিন্ন থানায়।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে নগরীর একটি রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এ তথ্য জানান। এসময় তিনি রাজশাহীর মসজিদ মিশন একাডেমির শিক্ষকদের দ্বারা অর্থ আত্মসাৎ, জামাত-বিএনপির সংশ্লিষ্টতা, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, শিক্ষার্থীদের জামায়াতের বই পড়ানো ও তাদের থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন সাংসদ বাদশা।
মসজিদ মিশন একাডেমির অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খান মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মুঠোফেনে জানান, শিক্ষক-কর্মচারী মিলে ১১৫ জন কর্মরত আছেন। শুধু শিক্ষক রয়েছেন ৮৫ জন।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর মসজিদ মিশন একাডেমিতে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোপন বৈঠক চলাকালীন শিক্ষকসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেন। তারা হলেন- নগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম (৫০), প্রচার সম্পাদক শাহাদাত হোসেন (৪৫), বোয়ালিয়া থানার আমির আমিনুল ইসলাম (৬০), রাজপাড়া থানার নায়েবে আমির কামরুজ্জামান (৪৫), রাজপাড়া থানার সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন (৪১), নগরের সুরা সদস্য সিরাজুল ইসলাম (৪৮), নগরের শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি আ. সামাদ (৫০), নগরের সদস্য মাহফুজুল্লাহ জহির (৪৭), সদস্য আরিফিন মৃধা (৩১) ও সদস্য তহিদুল ইসলাম (৪৫)।
নগরীর কয়েকটি থানা সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানা শিবিরের সাবেক সভাপতি। তিনি এখন বোয়ালিয়া থানা জামাতে ইসলামীর আমির। তার বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বারগুলো ৪৭/১২৯৩- ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মামলা নাম্বার ৬৫ ও ৬৬- ৩০ জানুয়ারি ২০১৭। এছাড়া কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা নাম্বার ৩৮/৬৮৯ -২০ নভেম্বর ২০১৯।
প্রভাষক মাইনুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিবিরের সেক্রেটারী ছিলেন। এখন তিনি নগর জামাতের সেক্রেটারি। এছাড়া প্রভাষক মাইনুল ইসলাম নগরীর লক্ষ্মীপুরের জমজম ইসলামী হাসসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও চাকরি করছেন। অনিয়ম করে দুই স্থান থেকেই বেতন নেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৪টি মামলা রয়েছে।
মাইনুলের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বার ১৯- ১১ মার্চ ২০১৬, মামলা নাম্বার ৩২-১৭ জানুয়ারি ২০১৭, মামলা নাম্বার ৬৫ ও ৬৬ -৩০ জানুয়ারি ২০১৭, মামলা নাম্বার ৪৭/১২৯৩- ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মামলা নাম্বার ৩৬- ৮ আগস্ট ২০১৭, কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা নাম্বার ৩৮/৬৮৯- ২০ নভেম্বর, বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বার ২৯- ২০ জানুয়ারি ২০১৫, মামলা নাম্বার ৩৭ ও ৩৮ – ২৬ ডিসেম্বর ২০১৩ (একইদিনে), মামলা নাম্বার ৮২ -২৭ সেপ্টম্বর ২০১৩, মামলা নাম্বার ৭১ -২৩ সেপ্টম্বর ২০১৩, মামলা নাম্বার ২৪ -৮ সেপ্টম্বর ২০১৩ ও সেপ্টম্বর ৪৯- ২৬ জুলাই ২০১৩।
সহকারী অধ্যাপক শাহাদৎ হুসাইন নগর শিবিরের সভাপতি ছিলেন। এখন নগর জামাতের সহ-সেক্রেটারি এবং তথ্য ও প্রচার সম্পাদক ও প্রভাষক সিরাজুল ইসলাম ছিলেন বোয়ালিয়া থানা শিবিরের সভাপতি। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে চারটি করে মামলা রয়েছে। কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা নাম্বার ৩৮/৬৮৯- ২০ নভেম্বর ২০১৯, বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বার ৬৫ ও ৬৬- ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ (একইদিন), মামলা নাম্বার ৪৭/১২৯৩- ১০ ডিসেম্বর ২০১৯।
প্রভাষক কামরুজ্জামান সোহেল ছিলেন রাজপাড়া থানা শিবিরের সভাপতি। এখন থানা জামাতের আমির। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রাজপাড়া থানায় মামলা নাম্বার ৩৬/৭১২- ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বার ১৯ -১১ মে ২০১৬, মামলা নাম্বার ৪৭/১২৯৩ – ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মামলা নাম্বার ৬৫ ও ৬৬- ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ (একইদিন), রাজপড়া থানায় মামলা নাম্বার ৪৩/৭১২- ১২ আগস্ট ২০১৭, কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা নাম্বার ৩৮/৬৮৯- ২০ নভেম্বর ২০১৯।
সহকারী শিক্ষক ফরিদ উদ্দীন আত্তার ছিলেন চট্টগ্রামের শিবির নেতা। এখন তিনি রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানা জামাতের আমীর ও প্রভাষক তৌহিদুল ইসলাম নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামাতের সভাপতি। তাদের বিরুদ্ধে দুটি করে চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় মামলা নাম্বার ৩৮/৬৮৯- ২০ নভেম্বর ২০১৯, বোয়ালিয়া থানায় মামলা নাম্বার ৪৭/১২৯৩ – ১০ ডিসেম্বর ২০১৯।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদ মিশন একাডেমির অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খান জানান, প্রতিষ্ঠানের বাইরে কে কি করে সেটা তার জানা নেই। তবে সাংসদ বাদশা সাংবাদ সম্মেলন করেছেন। আজ মঙ্গলবার পত্রিকায় পড়েছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ