অপরিকল্পিত পুকুর খননে জলাবদ্ধতা ভবিষ্যত কৃষির জন্য বিপর্যয় নয় তো?

আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২০, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহীর বাঘা-লালপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বসন্তপুর বিলে ব্যাপক জলবদ্ধবার মুখে পড়ে৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৩০ হাজার বিঘা জমিতে আবাদ করতে পারছে না কৃষক। অভিযোগ করা হচ্ছে, অপরিকল্পিত উপায়ে পুকুর খননের ফলে ওই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগিরা সংশ্লিষ্ট মহলে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পান নি। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
বাস্তব চিত্র খুবই রুঢ় ও কঠিন। অপরিকল্পিত উপায়ে যারা পুকুর খনন করছেন তারা এলাকার প্রভাবশালী। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাও তারা ব্যবহার করতে পারে। ফলে নিরীহ ও দরিদ্র কৃষকের তাদের সাথে পেরে উঠা শুধু কঠিনই নয় কোনা কোনো ক্ষেত্রে অসম্ভবও বটে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অসহায় অবস্থার মধ্যে আছেন হাজার হাজার কৃষক। সমস্যা শুধু বাঘা ও লালপুরের নয়Ñ পুরো রাজশাহী অঞ্চলেই এই অশুভচক্রের প্রভাব আছে। মাছ চাষে লাভ বেশিÑ ফলে এ খাতে বিনিয়োগ দ্রুততার সাথে বাড়ছে। অনেক কৃষকও তার জমি লিজ দিচ্ছেন ব্যবসায়ীর কাছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পুকুর খননের হিড়িকে এ অঞ্চলে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। একই সাথে কমবেশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তাৎক্ষণিক লাভের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কী নাÑ সেটিই বড় প্রশ্ন? এ প্রশ্নগুলো উঠে আসছে যে, এর পরিণাম কী?
কেননা যেসব পুকুর খনন করা হচ্ছে তার বেশির ভাগই কৃষি জমির ধরন পরিবর্তন করে। উদ্বেগের জায়গা এটিই। এ হারে কৃষি জমির সংখ্যা কমতে থাকলেÑ এক সময় খাদ্য-উদ্বৃত্তের এই অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়া অসম্ভব কিছু নয়। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা আছেÑ স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনোভাবে কৃষি জমির শ্রেণির পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু কেউ মানছে না সরকারের সেই নিষেধাজ্ঞা। অভিযোগ জমা হচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসনের তর্জন-গর্জনেরও কমতি নেই। মাঝে মধ্যে দু একটি অভিযানও পরিচালিত হয় কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে। ব্যাপকহারেই অপরিকল্পিত উপায়ে পুকুর খননের কাজ অব্যাহত আছে। সংবাদ মাধ্যমেও বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই সমস্যাটির সমাধান হচ্ছে না। বরং অপরিকল্পিত পুকুর খননের প্রবণতা বাড়তেই আছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সামজিক সমস্যাও তৈরি হয়েছে। মারামারি ও খুনের মত ঘটনাও ঘটেছে। দিন যত যাচ্ছে মানুষের প্রতিবাদের ভাষাও স্তিমিত হচ্ছে। অভিযোগ করে ফল না পেয়ে মানুষ অসহায় হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি দারিদ্র বিমোচনেরও অন্তরায়। জলবদ্ধতায় পড়ে যারা জমিতে আবাদ করতে পারছেন না তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন- তাদের দৈনতা বাড়ছে। কৃষক যে সব জমিতে বিগত সময়ে এক বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন করতেন জলাবদ্ধবায় জমি ডুবে সেটা আর হচ্ছে না।
সাময়িক লাভের জন্য কৃষি ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতে সঙ্কটের মধ্যে ঠেলে দেয়া সঠিক কাজ হবে না। এছাড়া এই পরিস্থিতিতে সামজিক যে সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে- তার পরিণামও ভাল হওয়ার নয়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা সময়ের দাবি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ