অপারেশন ঈগল হান্ট শেষ : জঙ্গিনেতা আবুসহ নিহত চার

আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

অভিযান চলাকালে পুলিশের বিষেশায়িত টিম সোয়াত সদস্যদের তৎপরতা- সোনার দেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস


চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর ত্রিমোহনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘিরে রাখা জঙ্গি আস্তানায় গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নব্য জেএমবি নেতা আবুসহ চারজন নিহত হয়েছে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে অপারেশন ঈগল হান্টের সমাপ্তি ঘোষণা করেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন। এর আগে বিকেলে ওই বাড়ি থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নব্য জেএমবি নেতা আবুর স্ত্রী সুমাইয়া ও চার বছরের কন্যা সাহিদাকে। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে পুলিশের কর্ডন করে রাখা এলাকায় ঢুকে পড়ায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে সাময়িক স্থগিত করার পর গতকাল সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে অভিযান শুরু করে পুলিশের বিশেষায়িত টিম সোয়াত ও এপিবিএন সদস্যরা। এরপর থেকেই দিনভর থেমে থেমে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। দফায় দাফায় গুলির শব্দে আশে পাশের এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১২ টা ও ১টার দিকে বিকট শব্দে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এসময় বাড়ির উপরে আগুনের ধোঁয়া দেখা যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে আত্মসমর্পণের জন্য জঙ্গিদের আহবান জানানো হয়। বিকেল ৫টার দিকে ব্যাপক গোলাগুলির মধ্যে ঘিরে রাখা ওই বাড়ি থেকে জেএমবি নেতা আবুর স্ত্রী সুমাইয়া ও চার বছরের কন্যা সাহিদাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাদের অ্যম্বুলেন্সে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে সকালে ঘটনাস্থলে আসে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়করণ দল। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সও রাখা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এদিকে পুলিশের কর্ডন করে রাখা এলাকায় ঢুকে পড়ায় বিকেল চারটার দিকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঘটনাস্থলের পাশে একটি আমবাগানে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিঙে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশীদ হোসেন অপারেশন ঈগল হান্টের সমাপ্তি ঘোষণা করে বলেন, বার বার অনুরোধ জানানো সত্বেও জঙ্গি নেতা আবু আত্মসমর্পণ করেনি। বরং বাড়ির ভেতর থেকে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। কাজেই বাধ্য হয়েই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুলি করতে হয়েছে। ওই বাড়ি থেকে জঙ্গিনেতা আবুসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে নিহত অন্য তিনজনের পরিচয় তিনি জানাতে পারেন নি। নিহতরা নিজেদের গ্রেনেডের বিস্ফোরণে মারা গেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে জঙ্গি আবুর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সুমাইয়া ও কন্যা সাদিয়াকে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটা পুলিশের জন্য একটি সফলতা। তিনি আরো বলেন, পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়করণ দল ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এখন ওই বাড়িতে পরবর্তী কার্যক্রম চালাবে। এসময় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম, সোয়াতের উপকমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শিবগনগর ত্রিমোহনী এলাকার ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে কাউন্টার ট্রেরোরিজম ইউনিট। এসময় ওই বাড়ি থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে বিকেলে অভিযানে যোগ দেয় সোয়াত সদস্যরা। ওই দিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক গুলিবিনিময় হয় জঙ্গিদের। একপর্যায়ে কৌশলগত কারণ দেখিয়ে রাত ৯টার দিকে অভিযান সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দেন সোয়াত কর্মকর্তা প্রলয় কুমার জোয়ারদার। সেসময় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে আবারো অভিযান শুরু করার কথা জানিয়েছিলেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। এদিকে গত দুইদিন ধরে ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনাস্থলের আশপাশের বাড়িগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শিবগনগর ও এর আশেপাশের এলাকায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। পুলিশের জানায়, ওই জঙ্গি আস্তানায় নব্য জেএমবি নেতা আবু তার স্ত্রী সুমাইয়া ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস বাস করতেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ