অবকাঠামো নির্মাণ খরচ বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি: বিশ্ব ব্যাংক

আপডেট: জুন ২১, ২০১৭, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বিশ্বে অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে ব্যয় সবচেয়ে বেশি হয় বলে দাবি করেছে বিশ্ব ব্যাংক।
নতুন অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অবকাঠামোর নির্মাণ ব্যয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে এই দাবি করা হয়।
বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা বহু দিনের। তবে নানা জটিলতার কারণে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু প্রকল্পে তারা এখন নেই। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ চলছে।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ভারত, চিন ও ইউরোপের তুলনায় প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বাংলাদেশের ব্যয় অনেক বেশি হয়।”
অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য দুর্নীতিকেই দায়ী করেন তিনি।
“মূলত ট্রেন্ডারিং (দরপত্র) এর প্রতিযোগিতার অভাবের কারণেই খরচ বেশি হয়। এটি দুর্নীতিরই একটি অংশ। এছাড়া উঁচু-নিচু জমির কারণেও খরচ বাড়ে।”
বাংলাদেশের কয়েকটি সড়কের নির্মাণ ব্যয় তুলে ধরে তার সঙ্গে ভারত, চিন ও ইউরোপের তুলনা করেন জাহিদ হোসেন।
বাংলাদেশের চার লেইনের উন্নীত করতে রংপুর-হাটিকুমরূল মহাসড়কের এক কিলোমিটারের জন্য ৬৬ লাখ টাকা (৬.৬ মিলিয়ন ডলার), ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৭০ লাখ, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২৫ লাখ টাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২৫ লাখ টাকা খরচের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
জাহিদ হোসেন বলেন, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এমন এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে (জমি অধিগ্রহণসহ) খরচ হয় ১১ লাখ থেকে ১৩ লাখ (১.১ থেকে ১.১৩ মিলিয়ন ডলার) টাকা। চিনে ব্যয় হয় ১৩ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা (১.৩ থেকে ১.৬ মিলিয়ন ডলার)। ইউরোপের দেশগুলোতে হয় ৩৫ লাখ টাকা (৩.৫ মিলিয়ন ডলার)।
“যদি এই তথ্য একটু পুরনো, ২০১৩ সালের। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এখনও এই চিত্রই বিদ্যমান,” যোগ করেন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফানও ছিলেন।
অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে বেশি ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভৌগোলিক কারণে একেক দেশে ব্যয় একেক রকম হবে, এটাই স্বাভাবিক।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ