অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করলেন বিএনপি নেতা মিনু

আপডেট: মার্চ ৭, ২০২১, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবজ্ঞা ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘হত্যার’ ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রোববার (৭ মার্চ) এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন। রাজশাহী নগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন ই-মেইলে এ বিবৃতি পাঠিয়েছেন।
এদিকে, মিনুকে ক্ষমা চাইতে নগর আওয়ামী লীগ ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটার দেয়। বেঁধে দেয়া সময় শেষ হয় শনিবার সন্ধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাইলেও পরদিন তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেন। যোগাযোগ করা হলে মিজানুর রহমান মিনু এই বিবৃতিটি পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
বিবৃতিতে মিনু বলেন, ‘আমার বক্তব্যের জন্য যারা ব্যথিত হয়েছেন, মর্মাহত হয়েছেন, আমি তাদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি এই মহানগরীতে জন্মগ্রহণ করে দীর্ঘদিন রাজশাহীবাসীকে নিয়ে রাজনীতিতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ সকল আন্দোলনে পাশে পেয়েছি। সুতরাং কোন ব্যক্তি বিশেষ বা গোষ্ঠী বিশেষকে উদ্দেশ্য করে আক্রোশমূলক বক্তব্য প্রদান করা আমার স্বভাববহির্ভূত। তাই সকলকে আমার বক্ত্যব্যে ষড়যন্ত্র না খোঁজার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এর আগে গত মঙ্গলবার (২ মার্চ) বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আজ রাত, কাল আর সকাল নাও হতে পারে। ৭৫ মনে নাই?’ সেই সমাবেশে মিনু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। এর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে নগর আওয়ামী লীগ। পরদিনই বিক্ষোভ-সমাবেশ করে দলটি। সেই সমাবেশ থেকে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মিনুকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
মেয়র লিটন ঘোষণা দেন, এই সময়ের মধ্যে মিনু ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এ বক্তব্যের তিব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। অবশেষে মিনু দুঃখ প্রকাশ করলেন। এরআগে ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর রাজশাহী মহানগর বিএনপির এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিনু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাথে তুলনা করে কটুক্তিমূলক বক্তব্য রাখেন। এ নিয়ে তখনও রাজশাহীতে বিক্ষোভ করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে বক্তব্য দেয়ায় তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা মিনু।
এবার বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ এবং আরেকটি ১৫ আগস্টের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। গত শুক্রবার ও শনিবার বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলেন। মিনু এত সাহস কোথায় পেলেন সেই প্রশ্নও তোলেন ওবায়দুল কাদের। অবশেষে মিজানুর রহমান মিনু গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন।
এদিকে, মিনু বিবৃতি পাঠানোর আগে আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ায় নগর আওয়ামী লীগ মিনুর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার ৭ মার্চের আলোচনা অনুষ্ঠানেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন উপস্থিত ছিলেন। সেই আলোচনা সভায় মিনুর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়।
সভা শেষে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের আইনজীবীদের বলা হয়েছে। কোন কোন ধারায় মামলা করা যায় সেটা তারা দেখবেন। সোমবার আদালতে মামলা করা হবে। এছাড়া আগামী ৯ মার্চ রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। সেখানে আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল ও রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনও উপস্থিত থাকবেন।
মিনুর দুঃখ প্রকাশ নিয়ে আওয়ামী লীগ কী ভাবছে জানতে চাইলে ডাবলু সরকার বলেন, সেটা আবার আলোচনার বিষয়। আমরা আবার একটু আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব।