অবশেষে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কর্মকর্তা নাজমুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ।। রাজশাহী থেকে পাবনায় বদলি

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



অবশেষে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক রাজশাহী শাখার জুনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১০ মার্চ দৈনিক সোনার দেশ এর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রধান শিরোনামে ‘বেপরোয়া প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কর্মকর্তা নাজমুল’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং ভুক্তভোগীদের মধ্যে শুরু হয় তোলপাড়। বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে রাজশাহী থেকে পাবনায় বদলি করা হয়েছে। গত ১৩ মার্চ এ আদেশ দেয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই আদেশ হাতে পেয়েছেন শাখা ব্যবস্থাপক। এরপর ছুটি না নিয়েই অফিস ছাড়েন নাজমুল ইসলাম।
তার বদলির আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের রাজশাহী শাখা ব্যবস্থাপক মাহবুবা বেগম। তিনি জানান, সকালে তিনি ওই আদেশের কপি হাতে পেয়েছেন। যতদ্রুত সম্ভব তাকে অবমুক্ত করতে বলা হয়েছে। তবে দাফতরিক কাজ থাকায় দু’একদিনের মধ্যে এটি সম্ভব হচ্ছে না। নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে তিনি প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করেছেন বলে জানান।
এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামের বদলি আদেশের কপিটি সোনার দেশ এর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে’ তাকে পাবনায় দায়িত্বপালনের নির্দেশ দেয়া হয়। আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে রাজশাহী শাখা থেকে নাজমুল ইসলামের অবমুক্ত হবার কথা। ওই দিনের মধ্যেই পাবনায় তার যোগদানের কথা। ব্যাংকের হেড অব এইচআরডি ও অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হাসনা হেনা পারভীন ওই আদেশে স্বাক্ষর করেন।
হাসনা হেনা পারভীন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অভিযোগ গ্রহণ ও নিস্পত্তির বিষয়ে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাবনা শাখায় লোকবল সংকট। কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় তাকে সেখানে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে।
তবে প্রভাবের কারণে ওই ব্যাংক কর্মকর্তার শাস্তি শুধুমাত্র বদলি আদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে কী না- এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরে হাসনা হেনা পারভীন বলেন, কোনভাবেই তার ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করবে ব্যাংক পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। তবে দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। শিগগিরই এ নিয়ে কমিটি গঠন করার কথা।
অপরদিকে নতুন করে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের রাজশাহী শাখার জুনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে টিটিসির বিদ্যুৎ বিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে টিটিসি কর্তর্ৃৃপক্ষ চিঠি দিয়েছে ব্যাংক ব্যবস্থাপককে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টিটিসির আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন নাজমুল। কিন্তু ওই সময়ের ১১ হাজার ৯৪০ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ওই বাসা বরাদ্দ নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। তবে সম্প্রতি তিনি ওই বাসা ছেড়ে দেন।
এছাড়া নতুন করে সামনে এসেছে ওই কর্মকর্তার প্রতারণার অভিযোগ। এরই মধ্যে বিদেশ পাঠানোর নাম করে হাতিয়ে নেয়া টাকা ফেরত না দেয়ায় তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এক ভুক্তভোগী। গত ৮ মার্চ ইস্যু করা ওই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে ৩০ দিনের মধ্যে। ৩০ হাজার টাকার চেক দিয়ে নগদায়ন না হওয়ায় এ নোটিশ পাঠান চাঁপাইনবাবগঞ্জের বটতলাহাট ইউনিয়নের বালুগ্রাম নতুনপাড়া (মাঝপাড়া) এলাকার বাবুল হক। বাবুল হক ছাড়াও ওই এলাকার আরো অন্ততঃ ১০ জনের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেন নাজমুল। নোটিশ পাঠানোয় উল্টো মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ঋণগ্রহীতাদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন নাজমুল ইসলাম। ঋণ ছাড়ের নামে প্রতি লাখে আদায় করছেন ১০ হাজার টাকা করে। এছাড়া বিদেশগামীদের স্মার্ট কার্ডের জন্য ব্যাংকড্রাফ্ট করতেও নিচ্ছেন ˜ি¦গুন অর্থ। অফিস শুরুর আগে ও পরে ইস্যু করছেন ব্যাংকড্রাফট।
দাফতরিক কাজ ছেড়ে নিজ দফতরে বসেই পুরণ করছেন সেই ফরম। পরে তা নিজেই বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি দফতরে। প্রতিদিন অন্ততঃ ১৫ জনের ফরম জমা ও ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়াচ্ছেন তিনি। এ থেকে প্রত্যেকের কাছ থেকে আদায় করছেন দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা করে। অভিযোগ রয়েছে, নাজমুল ইসলামের যোগসাজস রয়েছে বেশ কয়েকটি রিক্রটিং এজেন্সির সঙ্গে। মোটা কমিশনে লোকও পাঠান তাদের কাছে। এনিয়ে প্রতারণারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা উত্তীর্ণ হয়ে ২০১২ সালের ৮ মার্চ প্রবাসী কণ্যাণ ব্যাংকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে যোগদান করেন নাজমুল ইসলাম। শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েও তদবিরে অস্থায়ী এ নিয়োগ হয়ে যায় তার। অন্যান্যদের চাকরি স্থায়ী হলেও ¯্নাতক ডিগ্রি না থাকায় আটকে যায় নাজমুলের স্থায়ীকরণ।
বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করা এবং প্রতারণার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ ইস্যুর ব্যাপারসহ আনুষঙ্গিক অনিয়মের বিষয়ে জানার জন্য নাজমুল ইসলামকে জিঙ্গাসা করা হলে তিনি বলেন, লিগ্যাল নোটিশ এখনো হাতে পাই নি। এছাড়া বদলির আদেশের ব্যাপারে আমি এখনো কিছু জানি না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ