অবশেষে সংস্কার করা হচ্ছে রাণীনগরের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ

আপডেট: মে ১৭, ২০২২, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি:


অবশেষে সংস্কার হচ্ছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় পাইলট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ। প্রিয় এই মাঠের সংস্কার এবং আধুনিকায়নের কাজে আনন্দিত এলাকাবাসী। স্থানীয় সংসদ সংসদের নির্দেশনায় ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাঠে মাটি ভরাট করে উচু করাসহ আধুনিকায়নের এই কাজ শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খেলাধুলায় উপজেলার সোনালী দিনের স্বাক্ষর বহন করে চলেছে কেন্দ্রীয় এই মাঠটি। এই মাঠে একসময় অনুষ্ঠিত হতো বিভাগীয়সহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্ট। এছাড়াও ক্রিকেট, হ্যান্ডবলসহ উপজেলা পর্যায়ের সব ধরনের খেলা এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হতো এই মাঠেই।

এই মাঠে আয়োজন করা হতো বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় খেলার আসর। খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের মানুষ নিয়মিত শরীর চর্চাও করতো। কিন্তু দীর্ঘদিন এই মাঠের কোন সংস্কার না করার কারণে এবং পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না করেই মাঠের আশেপাশের জায়গা দখল করে অপরিকল্পিত ভাবে ভবন নির্মাণ করার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও বাসা বাড়ির পানি জমে বছরের পর বছর মাঠটিতে সৃষ্টি হতো কৃত্রিম জলাবদ্ধতার।

শুকনো মৌসুমে মাঠ কিছুটা ব্যবহার করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে এই মাঠে স্থানীয়রা মাছ শিকার করতো। চাষ হতো কচুরিপানার। এই মাঠটি দিন দিন তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলতে বসেছিলো।

গতবছর এই বিষয়ে দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও জাতীয় এবং আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল এই মাঠটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তারই ফলশ্রুতিতে চলতি মাসের শুরু থেকে এই মাঠটিতে প্রথমে মাটি দিয়ে ভরাট করার কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে করে খুশি ও আনন্দিত উপজেলাবাসী এবং স্থানীয় ক্রীড়ামোদী মানুষরা।

স্থানীয় বাসিন্দা খোকন, রাজু, হাসানসহ অনেকেই বলেন, মাঠ সংস্কারের কাজ দেখে খুবই ভালো লাগছে যে আবার আমরা সকল বয়সের মানুষরা মাঠটিতে খেলাধুলায় মেতে উঠতে পারবো।

আবার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও খেলোয়ার এবং দর্শকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে এই প্রিয় মাঠটি। কাজ শুরু করায় স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা। শুধু মাটি দিয়ে ভরাটই নয় আধুনিকায় করতে যা যা দরকার বর্তমান ক্রীড়া বান্ধব সরকার সেই সকল কাজ দ্রুতই সম্পন্ন করবেন বলে আমরা আশাবাদি।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জয় বলেন, স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতায় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে দ্রুত মাঠটি সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করতে স্থানীয় সংসদ সংসদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তি বরাবর জোরালো আবেদন করা হয়।

তারই প্রেক্ষিতে মাঠটি সংস্কার করার কাজ শুরু হওয়ায় খুবই ভালো লাগছে। আশাকরি মাঠটিতে মাটি ভরাট করার পর অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং আধুনিকায়নের পদক্ষেপও গ্রহণ করবেন এটাই শুধু আমাদের দাবি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, স্থানীয় সংসদ সংসদ মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক মাঠটিকে উচু করে আধুনিকায়ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রথমে মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে পরবর্তিতে মাঠের তিন দিকে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনও নির্মাণ করা হবে। এই ঐহিত্যবাহী মাঠটিকে আধুনিকায়ন করতে এবং হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে যা যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, ছোট বেলায় এই মাঠে খেলার আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আজ এই ঐতিহ্যবাহী মাঠটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছিলো। আমি সংসদ সংসদ হওয়ার পরই এই মাঠটিকে সংস্কার এবং আধুনিকায়ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করি। ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু করা হয়েছে।

বর্তমান ক্রীড়াবান্ধব সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার হারিয়ে যাওয়া কিংবা নষ্ট হয়ে অযতœ আর অবেহলায় পড়ে থাকা খেলার মাঠগুলোকে নতুন করে আধুনিকায়ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কারণ বর্তমান প্রজন্ম ও আগামী প্রজন্মকে নিয়মিত মাঠে গিয়ে খেলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমি আশাবাদি অতি দ্রুতই রাণীনগরবাসীরা নতুনরুপে এই মাঠটিকে ফিরে পাবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ