অবশেষে স্ত্রীর মামলায় জেলে গেলেন আ’লীগ নেতা শাদাত

আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৭, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


রাজশাহীর তানোর উপজেলার সরনজাই ইউপি আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শাদাতকে অবশেষে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রীর যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় জেলে যেতে হলো। গতকাল বুধবার মামলার ধার্য দিনে হাজিরা দিলে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রাজশাহী আমলী তিন নম্বর আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম শাদাতকে জেলে পাঠানো আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদি শাদাতের তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী বুলবুলি খাতুন ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহনাজ। গত মে মাসে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। শাদাত জেলে যাওয়ায় মামলার বাদি কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানান। তবে তার আরো শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর গোপনে বুলবুলি খাতুনকে মোহনপুর উপজেলার ইউনিয়নের কাজী ময়েজ উদ্দিনের কাছে ৮০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর ২১ দিনের মাথায় আ’লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন শাদাত তালাক দেন। কিন্তু তালাকের নোটিশ ওই সময় স্ত্রীর হাতে দেন নি শাদাত। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী বুলবুলিকে বাবার বাড়িতে রেখেছিলেন তিনি। বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় নিয়মিত স্ত্রীর সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এতেই স্ত্রী বুলবুলি পাঁচ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়েন।
স্ত্রী বুলবুলি জানান, বিয়ের পর একাধিকবার স্বামী শাদাতের বাড়ি যেতে চাইলে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের দোহায় দিয়ে নিয়ে যেতেন না বাড়িতে। এমনকি বিয়ে করার আগেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে দুইজনের মাঝে। এক পর্যায়ে শাদাত বিভিন্ন চাকরির প্রলোভনে টাকা আদায় করেন বুলবুলির কাছ থেকে এবং বিয়ের পর আলু চাষ করার নামে ৮০ হাজার টাকা দেন স্বামী শাদাত। তালাকের বিষয়টি গোপন করে গত মে মাসের প্রথম দিকে তালাকের নোটিশ স্ত্রী বুলবুলির হাতে দেন। বাধ্য হয়ে বুলবুলি খাতুন গত ৫ মে রাজশাহী জেলার বিজ্ঞ আমলি তিন নম্বর আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার ধার্য দিন ছিল গতকাল। ধার্য দিনে হাজিরা দিলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সাইফুল ইসলাম শাদাতকে জেলে পাঠান।
মোহনপুর উপজেলার ধূরইল ইউপির কাজী ময়েজ উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হয় বিয়ের ২১ দিনের মাথায় কিভাবে তালাক হয়। তিনি জানান, ২১ দিন কেন ৫-১০ দিনেও তালাক দেয়া যায়। তিনি আরো বলেন, বুলবুলি খাতুনের উপর অমানুষিক নির্যাতন করেছেন স্বামী শাদাত। এজন্যে বুলবুলি খাতুন যেকোন সহায়তা চাইলে তাকে সহায়তা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।