অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ ব্লক ব্যবহার সহজ ও সুলভ করতে হবে

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২২, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে (১৯ জানুয়ারি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বনভূমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ এবং অবৈধ ইটভাটা বন্ধে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন। পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, আমরা ইটের পরিবর্তে ব্লক ইট প্রস্তুত করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি। ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি স্থাপনায় শতভাগ ব্লক ইট ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আমরা যখন শতভাগ ব্লকে যাব তখন এমনিতেই ইটভাটা বন্ধ হয়ে যাবে।
আর তিন বছর বাকিÑ এর মধ্যেই অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি কিংবা বেসরকারি স্থাপনা হোক না কেন সর্ব ক্ষেত্রে ব্লক ব্যবহারের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। যদিও কাজটা খুব সহজ হবে বলে মনে হয় না। কেননা ব্লক ব্যবহারের বাস্তব দৃষ্টান্ত খুব একটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মাত্র তিন বছরের মধ্যে ব্লক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জই হবে।
টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জও আমাদের সামনে আছে। ২০৩০ সালের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য পরিবেশের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আনতেই হবে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশের ইটভাটাগুলো নানাবিধভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে চলেছে। এই ক্ষতি সামলে উঠতে হলে অবশ্যই ইটভাটা বন্ধ করতে এবং ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক ব্যবহারের দিকেই যেতে হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০১০ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ (সংশোধিত) অনুযায়ী আবাসিক, সংরক্ষিত ও বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, বন ও জলাভূমি এবং কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। ইটভাটা হতে হবে এসব এলাকা থেকে কমপক্ষে ১ কিলোমিটার দূরে। অথচ বসতবাড়ির কাছে, আবাদি জমিতে, এমনকি তিন ফসলি জমিতেও ইটভাটা আছে। ইটভাটার কারণে অবিরত নির্গত কালোধোঁয়ার সঙ্গে ছাই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকাগুলোয়। বাড়ির টিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আশপাশের সবকিছুই ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন থাকছে। মাটি পোড়ানো ধোঁয়ায় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ, বন উজাড় ও ভূমিক্ষয়ের প্রভাবে জীবকুলের নানাবিধ ক্ষতি ও রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও শিল্পায়নের এ যুগে ইট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাঁচামাল হল মাটি। আর এ মাটির সহজলভ্যতার জন্য বেশিরভাগ ইটভাটাই কৃষিজমির পাশে অবস্থিত এবং ইটের জন্য কৃষিজমির উর্বর মাটি ব্যবহার করে। এতে একটি আদর্শ কৃষিজমি অনুৎপাদনশীল পতিত জমিতে পরিণত হচ্ছে। কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি অপসারণ আমাদের পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষিজমির উপরিভাগের ৬ ইঞ্চি পরিমাণ মাটি সরানো হলেও তা মাটির উর্বরাশক্তি কমিয়ে দেয়। অথচ ক্ষেত্রবিশেষে ইটভাটাগুলো ১৮ থেকে ২২ ইঞ্চি পরিমাণ মাটি সরিয়ে নিচ্ছে।
কাঠ-কয়লাই যদি ইট পোড়ানোর জ্বলানি-উৎস হয় তা হলে কোনোভাবেই ইটভাটাকে পরিবেশবান্ধব করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে ব্লক ব্যবহার বিকল্প হিসেবে গন্য করা যায়। এর জন্য এখন থেকেই দেশের সর্বত্র ব্লক প্রাপ্তি সহজ ও সুলভ হতে হবে। যারা বর্তমানে ইটভাটার ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন তাদেরকেও প্রযুক্তি ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে ব্লক তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ