অবৈধ দখলে ঐতিহ্যে সোনাদিঘি

আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

রাসিক নিরব কেন?


নগরীর সোনাদিঘি নিয়ে নগরবাসী সোচ্চার। বিক্ষুব্ধ মানুষ আন্দোলনে মাঠে। নগরবাসী মনে করেন সোনাদিঘি নগরীর ঐতিহ্য, গৌরব ও ইতিহাসের অংশ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টরা সোনাদিঘির ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে সুরক্ষা দিবেন, নগরীর সৌন্দর্য বাড়াবেনÑ এমনই সব প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবায়িত হয় না। নগরীর প্রবীণ যারা কিশোর ও যৌবনকালে সোনাদিঘি দেখেছেন তারা বলেন, এই দিঘির পানি ছিল টলটলে, নির্বিঘ্নে খেতেনও অনেকে। এমনও কথা শোনা যায় যে, সোনাদিঘির পানি ডিসট্রিলওয়াটারের কাজ করতো। সোনাদিঘি শহরের মানুষের প্রাত্যহিক বিনোদনের স্থান হিসেবে পরিগণিত হতো। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা একেবারে নেই। বরং সোনাদিঘিকে স্বার্থন্বেষীরা হত্যা করতেই উঠেপড়ে লেগেছে। সোনাদিঘির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এখন নগরীর সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আন্দোলন করছে। এ সংক্রান্ত প্রতিদেন দৈনিক সোনার দেশসহ স্থানীয় পত্রিকায় শিরোনামে প্রকাশিত হচ্ছে।
সোনার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রভাবশালীমহল দীর্ঘদিন থেকে এ দিঘিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। সময়ের ব্যবধানে এ দিঘির বিশাল অংশ দখলে নিতে সক্ষমও হয়েছে তারা। বর্তমানে এ দখল প্রক্রিয়া আরো জোর গতিতে চলছে। আর এ দখলের প্রতিবাদে এবং ঐতিহ্যবাহী এ দিঘিটি পুনরুদ্ধারে সোচ্চার হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সংগঠন। এরই ধারাবাহিকতায় দিঘিটি দখলমুক্ত করতে মানববন্ধন করে একমাসের আলটিমেটাম দিয়েছেন রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদ ও রাজশাহী নাগরিক সমন্বয় কমিটির ব্যানারে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সোনাদিঘি ভরাট করে চুক্তিভঙ্গ করে সিটি সেন্টার’ নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দিঘির বেশকিছু অংশ ভরাট করে ফেলা হয়েছে। তার ওপর পাইলিং করে বসানো হয়েছে ২০ থেকে ২৫টি পিলার। এর ফলে অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে প্রায় শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এ দিঘিটি।
পুরো দিঘিতে ময়লা-আবর্জনা ভাসছে। এভাবে দখলে-দুষণে প্রাণ হারাতে বসেছে সোনাদিঘি। দিঘির পশ্চিম দিকে মোঘলস বিরিয়ানি নামে একটি রেঁস্তোরার রান্নাঘর তৈরি করা হয়েছে। এর কিছু অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করা। আর কিছু অংশ পানির ওপরেই বাঁশের কাঠামো দিয়ে তৈরি করা।
১৯২১ সালে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সম্মুখে নতুন মিউনিসিপ্যাল পাকা ভবন (একতলা) নির্মিত হয়। একই সময়ে এই ভবনটির পূর্ব পার্শ্বে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা একটি বৃহৎ দিঘি খনন করা হয়। এই দিঘি হচ্ছে সোনাদিঘি নামে রাজশাহী পরিচয় বহন করে। দিঘিটি খননের মূল উদ্দেশ্য ছিল শহরবাসীর জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করা।
সোনাদিঘি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন। সোনাদিঘি নিয়ে নগরবাসী তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও সিটি করের্পারেশ বিষয়টি নিয়ে উদগ্রিব বলে মনে হয় না। তারা নিরব কেন?Ñ এ প্রশ্ন নগরবাসীর। সোনাদিঘি দখল প্রক্রিয়া নতুন নয়Ñ দীর্ঘ সময় ধরেই দখল হচ্ছে। রাসিক-এর সাথে চুক্তি লঙ্ঘন করে দখল হচ্ছে। তদুপরি সিটি কর্পোরেশন নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। অথচ নাগরিকদের সম্পদ তাদেরই সুষ্ঠু দেখভালের কথা। কিন্তু বিষয়টি প্রতিবাদ হিসেবে মাঠে গড়ালেও রাসিক এ ব্যাপারে কোনো ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না। এটা খুবই উদ্বেগের কথা।
রাসিক কর্তৃপক্ষ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেনএটাই নগরবাসীর প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ