অবৈধ পদোন্নতির হিড়িক স্বাস্থ্য অধিদফতরে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১, ১:৪৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


স্বাস্থ্য অধিদফতরে নন-মেডিক্যাল কর্মচারী ও স্বাস্থ্য সহকারীদের অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্তও করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, বিধি ও নিয়ম মেনেই পদোন্নতি হয়েছে।
১৯৮৫ ও ২০১৮ সালের স্বাস্থ্য বিভাগীয় নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী স্বাস্থ্য সহকারী পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে পরিসংখ্যানবিদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক হওয়ার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য সহকারী থেকে শুধু সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সিনিয়র স্বাস্থ্য পরিদর্শক, এমটি ইপিআই হওয়া যায়। কিন্তু স্বাস্থ্য সহকারী থেকে অনেকেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি নিয়েছেন। জানাজানির পর তদন্তও করেছে অধিদফতর। তারপরও ফাঁকফোঁকর দিয়ে পদোন্নতি হয়েছে ঠিকই।
২০১৩ সালের আগস্টে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী নজরুল ইসলাম কীভাবে স্বাস্থ্য সহকারী থেকে ক্যাশিয়ার ও পরে প্রধান সহকারী হয়েছেন তা তদন্ত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার পদোন্নতি বাতিল করে মূলপদ স্বাস্থ্য সহকারী পদে রাখার আদেশ দেওয়া হয়। এমনকি তার পদোন্নতির জন্য যদি সরকারের কোনও আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকে তা সিভিল সার্জনকে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ইস্যুকৃত আদেশে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এমন আরও অনেকেই জালিয়াতি করে পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়েছেন। তারা অবৈধভাবে বেতন বৃদ্ধির চাপও দিয়ছেন। এ বিষয়ে হিসাব নিয়ন্ত্রকের অফিস থেকে ২০১১ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে চিঠিও দেওয়া হয়। পরে অধিদফতরের তৎকালীন পরিচালক (অর্থ) ডা. মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া তার প্রশাসনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেন।
অবৈধ পদোন্নতি পেলেন যারা : অবৈধভাবে পদোন্নতি নেওয়া এসব ব্যক্তিদের একটি তালিকা বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এসে পৌঁছেছে। তালিকা ধরে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, সাইদুর রহমান নামের এক স্বাস্থ্য সহকারীকে হিসাবরক্ষক পদে পদোন্নতি দিয়ে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর পদায়ন করা হয়েছে। একইভাবে আব্দুল কুদ্দুস নামের এক স্বাস্থ্য সহকারীকে জালিয়াতি করে হিসাবরক্ষক পদে পদোন্নতি করা হয়েছে। ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি তাকে পুনরায় প্রধান সহকারী পদে পিরোজপুর সিভিল সার্জনে বদলি করা হয়।
একই আদেশে স্টোর কিপার আক্তারুজ্জামানকে হিসাবরক্ষক করা হয়। নিয়ম থাকলেও তাদের পদোন্নতিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বরিশাল বিভাগের পরিচালকের কোনও মতামত নেওয়া হয়নি।
২০২১ সালের ৫ মে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয়কে হিসাবরক্ষক, ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক আল আমিনকে প্রধান সহকারী, বরগুনার আমতলীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক শহিদুল ইসলাম মন্টুকে প্রধান সহকারী, পটুয়াখালীর দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী আশরাফুলকে হিসাবরক্ষক, বরিশালের বিভাগীয় পরিচালক ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লতিফা আক্তারকে অফিস সহকারী পদে গত ১৮ মে পদায়ন করা হয়। কিন্তু ঢাকার স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় বরিশাল পরিচালকের আদেশটি বাতিল করে। জান্নাতুল ফেরদৌস নামের অপর এক নারীকে ওই পদে পদায়ন করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ