অবৈধ পুকুর খনন

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২৪, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

আত্মঘাতী প্রবণতাই উৎসাহিত হচ্ছে?
অবৈধ পুকুর খননের বিষয়টি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। যারা খনন করছেন তারা ধরেই নিয়েছেন একটু ম্যানেজ করেই অবৈধ পুকুর খনন করা যায়। ঠেকানোর গরজটাও নেই বললেই চলে। দিনে আইনের ব্যাপার-স্যাপার আছে তাই গভীর রাত ধরে পুকুর খননের কাজ চলছে। অনেকটা প্রশাসনকে ‘ভয়’ করার মহড়া মাত্র। নাটোরে অবৈধ পুকুর খনন বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্যে দুটি বিষয় নতুনরূপে এসেছে।

একটি হলো- অবৈধ পুকুর খননের ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা গভীর রাতে দল বেধে গিয়ে পুকুর খননে ব্যবহৃত এক্সকেভেটর মেশিন আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আইন হাতে তুলে নেয়ার ব্যাপারটি খুবই অ্যালার্মিং। আইন আরোপে উদাসীনতা থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ হতাশ হয়ে আনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে, এ ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়। অন্য ঘটনাটি হলো- জনৈক ইটভাটা মালিক অনেকটা দম্ভ ও হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইটভাটার জন্য সরকারের উচিৎ মাটি সরবরাহ করা।

এ বক্তব্য যতই অযৌক্তিক মনে হোক না, আইনের ক্রমব্যত্যয়ের কারণে এমন উচ্চারণ অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু এই পরিস্থিতি এভাবেই চালিয়ে যেতে দেয়া সমীচীন হবে? এটা প্রশ্ন বটে কিন্তু এর উত্তর বেশ জটিল ও কঠিনও বটে। চাইলেও এর উত্তর পাওয়া যাবে না। কিন্তু এই উত্তর না পাওয়াটাও সামাজিক বিকার তৈরি করে। অবৈধ পুকুর প্রবণতা এতোই ব্যাপক যে, সামাজিক সমস্যাগুলো দৃশ্যমান ও প্রকট হচ্ছে অথচ তার প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। যারা ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী তারা অবৈধ কাজটি বিরতিহীনভাবেই করে যাচ্ছে।

এর ফল কী হচ্ছে? প্রতিবেদনের তথ্যেই তার উল্লেখ আছে। নাটোরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ২০১০-১১ মৌসুমে নাটোর জেলায় মোট আবাদি জমি ছিল এক লাখ ৫০ হাজার ৮৩৮ হেক্টর। এ বছর তা কমে এক লাখ ৪৫ হাজার ৭১৭ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৬ হাজার হেক্টর কৃষি জমি কমেছে।

কৃষিজমি সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হতেই থাকলে আজ যা সাময়িক লাভজনক ধারণা হচ্ছে ভবিষ্যতে তা আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার সামর্থ বাংলাদেশের থাকবে না বলেই আশংকা জোর পায়। সময় থাকতেই সতর্ক হলে আখেরে সবারই কল্যাণ হয়।

Exit mobile version