অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান ।। পুনর্দখল না হওয়ার নিশ্চয়তাও চাই

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

রোববার নগরীর তালাইমারী ও কাজলা এলাকার অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কয়েকশ অবৈধ দোকানপাট, হোটেল রেস্তোরাসহ গড়ে উঠা বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ যৌথভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান চালায়। জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমান আদালত এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান অব্যহত থাকবে বলে জানান হয়েছে।
সোমবার দৈনিক সোনার দেশে এ সংক্রান্ত সচিত্র একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের পূর্ব কোনো নোটিশ ছাড়াই ওই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষেিতর সম্মুখিন হয়েছেন।
দেশে জনসংখ্যার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে যানবাহনের পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় প্রয়োজনীয় সড়ক অবকাঠামো এখনো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সড়কে যানজট একটি নিয়মিত সমস্যা। এই সমস্যা এতই ঘনীভুত হয়ে উঠছে যে, একে মোকাবিলা খুবই কঠিন হয়ে উঠছে। বলা হচ্ছে, সড়ক সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে, একই সড়কে প্রাণহানীও আশংকাজনকহারে বাড়ছেÑ যদি এটি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য একটি অন্যতম কারণ।
মহাসড়ককে কেন্দ্র করে হাটবাজার পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। সড়ক সংলগ্ন সরকারি ভূমিতে দোকানপাট এমনকি ঘরবাড়ি পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থাপনা কিন্তু একদিনে হয়নি। দিন দিনে এগুলো বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে কখনই গুরুত্ব দেয় না। কদাচিত উচ্ছেদ অভিযান চালান হয় বটে, তখন একটা মানবিক অবস্থা তৈরি করেÑ যা মানুষের কর্মসংস্থান, জীবন-জীবিকা ও বাসস্থানের মত মৌলিক বিষয়গুলো সামনে চলে আসে। কিন্তু অবৈধ স্থপনা তৈরির শুরুতেই বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে তা হলে মানবিক সমস্যা হিসেবে ওভাবে প্রকটভাবে দৃশ্যমান হতো না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সবসময়ই উদাসীন থাকেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিষ্কন্ঠক রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা থাকা উচিৎ।
অবৈধ উচ্ছেদ বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে উচ্ছেদের পর ওই জমি সাধারণত মুক্ত থাকে না। আবারো ধিরে ধিরে তা অবৈধ দখলে চলে যায়। এ ক্ষেত্রে দখলকারীর পরিবর্তন হয়ত হয় কিন্তু সমস্যাটির স্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। এসব ব্যাপারে একটা স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের দরকার। এর সাথে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ যেমন থাকা দরকার তেমনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিরও প্রয়োজনীয়তা আছে।  মহাসড়কে  ধান. আউড়, পাট শুকানোর দৃশ্য নতুন কিছু নয়Ñ কিন্তু এগুলো সচেতনতা সৃষ্টি করেই বন্ধ করা যায়। স্থানীয় নেতৃত্ব এ ব্যাপারে দারুন কাজে আসতে পারে।
আমরা উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এটাও নিশ্চিত করা দরকার যে, উদ্ধারকৃত স্থান পুনরায় দখল হবে না সে নিশ্চয়তাও রক্ষা করা দরকার। আর শুধু মহাসড়কই নয়- নগরীর রাস্তার ওপর দোকানপাট, ফুটপাথ দখল ইত্যাদিও মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হোক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ