অভাবের সংসারে উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত জিপিএ-৫ পাওয়া গৌরবের

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০২২, ১:২৩ অপরাহ্ণ


সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি :


এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত গৌরবের। সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তার স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়ার, কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। কারণ জন্মের ১ বছর পরেই গৌরবের বাবা মারা যান। তারপর মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য দারিদ্রতার মধ্যেও পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের হাটসিংড়া মহল্লার মৃত গোবিন্দ চন্দ্র সাহার পুত্র গৌরব চন্দ্র সাহা। মা কামনা রানী সাহা একজন গৃহিণী। স্বামী মারা যাবার ১৬ বছর কেটে গেছে। স্বজনদের সহযোগিতায় কষ্ট করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু সন্তানের চাহিদা পূরণ করতে পারেননি। অভাব অনটনের মাঝে কামনা রানী তার ভাইয়ের কাছ থেকে সংসারের খরচ নেন। জীর্ণশীর্ণ ঘরে বসবাস করতে হয় মা-ছেলের। মামা সুবল সাহা’র কিছুটা খরচ পেয়ে আধা শতক জায়গার উপর টিনশেড বাড়িতে মাকে নিয়ে বসবাস গৌরবের।

জানা যায়, গৌরবের বাবা গোবিন্দ চন্দ্র সাহা একসময় বাজারে ব্যবসা করতেন। কিন্তু লিভার জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে ২০০৬ সালে মারা যান। তারপর থেকে সংসারের অভাব নিত্যদিনের। ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো দেখা দিলেও উচ্চ শিক্ষা নিয়ে অনিশ্চিত গৌরব।

গৌরবের মা কামনা রানী সাহা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পরে অতি কষ্ট করে ছেলের লেখাপড়া করিয়েছি। ছেলে ভালো ফলাফল অর্জন করলেও সঙ্কায় আছি তার উচ্চ শিক্ষা নিয়ে। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে ছেলেটা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো।

সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, গৌরব অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। তার ফলাফলে আমরা গর্বিত। সে গরীব হওয়ায় বিনাবেতনে লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সবসময় তাকে সহযোগিতা করেছি। তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ