অভিভাবক শূন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়! সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চাপে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও উপউপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানের মেয়াদ গত ১৯ মার্চ রোববার শেষ হয়েছে। এরপর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে উপাচার্য ও উপউপাচার্য পদে নিয়োগ দেয়া হয়নি। প্রশাসনের শীর্ষ এ দুই পদে নিয়োগ না হওয়ায় অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসটি।
নিয়ম অনুযায়ী নতুন উপাচার্য ও উপউপাচার্য নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নানা ধরনের চাপও অনুভব করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে প্রশাসনিক ও অ্যকাডেমিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্তাব্যক্তিরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে নির্মাণাধীন মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের কাজ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগ রাবি শাখার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত দুইদিনেও এ কাজ শুরু করা যায়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধ গবেষণার কাজ বন্ধ করে দেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক ড. শফিকুন্নবী সামাদী। তবে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের কাজ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া।
একইদিন বিকেলে ঢাকায় অতিথি ভবনের জমি ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তে হাইকোর্ট থেকে জারিকৃত রুলের জবাব দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাগজপত্র ও অবস্থানের ব্যাখ্যা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় লিগ্যাল সেলের সঙ্গে ডাকা সভা পণ্ড করে দেন ছাত্রলীগের রাবি শাখার সাবেক নেতাকর্মীরা। নিয়োগ নিয়ে অবৈধ কাগজপত্র বৈধ করতে এ সভা ডাকা হয় বলে দাবি করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষক বলেন, ‘সদ্যবিদায়ী প্রশাসনের শেষ পর্যায়ে এসে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা নানাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। আর এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় তারা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন। নতুন উপাচার্য ও উপউপাচার্য দায়িত্ব নিলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়গুলো সমাধান করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে নতুন উপাচার্য ও উপউপাচার্য পদে কারা নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন, তা নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অধীর প্রতীক্ষায় আছেন উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের নতুন অভিভাবক নিয়ে।
১৯৭৩-এর অধ্যাদেশের ১১(২) ধারা অনুযায়ী, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সিনেট মনোনীত তিনজনের প্যানেল থেকে একজনকে উপাচার্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেবেন।’ কিন্তু প্রায় ১৬ বছর ধরে এ নিয়ম মেনে উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। দক্ষতার পাশাপাশি রাজনৈতিক রঙ দেখে উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র মতে, সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের ৪ আগস্ট সিনেটের সুপারিশে উপাচার্য নিয়োগ পান অধ্যাপক এম সাইদুর রহমান খান। এরপর অধ্যাপক ফাইসুল ইসলাম ফারুকী, অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, অধ্যাপক আবদুস সোবহান ও সদ্যবিদায়ী অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন উপাচার্য হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হওয়া ছাড়াই দায়িত্ব পান।
বর্তমান সময়ে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তার সুপারিশ আচার্যের কাছে প্রেরণ করেন। সেই সুপারিশ অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগ দেন আচার্য। তাই গুরুত্বপূর্ণ এ দুই পদে আসার জন্য সরকারদলীয় সমর্থক একাধিক শিক্ষক শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ ও লবিং।
শিক্ষার্থীবান্ধব, শিক্ষা ও গবেষণায় মান বৃদ্ধি ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতা থাকবে এবং নিয়োগ ও শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ করে বিশ্বের দরবারে যারা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে ধরবে তারাই প্রশাসনের দায়িত্বে আসবেন এটাই প্রত্যাশা শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের।