অভিযুক্ত প্রত্যেকের কেস টু কেস ব্যবস্থা নেয়া হবে || নাটোরে আ’লীগের বর্ধিত সভায় মোহাম্মদ নাসিম

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৯, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরে আ’লীগের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন-সোনার দেশ

বাংলাদেশ আওয়ামী-লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সকল অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার বিশ্লেষণ চলছে। অভিযুক্ত প্রত্যেকের কেস টু কেস ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলের শক্তিই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় শক্তি। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনে পুনরায় আ’লীগ জয়লাভ করবে। আমাদের মহান নেত্রীকে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে, দেশের উন্নয়নের ধারাকে আরো গতিশীল করতে এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আ’লীগকে সুশৃৃঙ্খল রাখতে হবে। বিএনপি-জামায়াত থেকে কর্মী নিয়ে এসে দল ভারী করা হচ্ছে। কেন কী দরকার আছে এর? আপনারা মনে রাখবেন, যখন দীর্ঘ দিন দল ক্ষমতায় থাকে তার যেমন সুফল রয়েছে, ঠিক তেমনই কুফলও রয়েছে। দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে অনেক উন্নয়ন হয়। দেশে শান্তি থাকে। কিন্তু এর কুফলও আছে। কুফল হলো- নেতাকর্মীদের দম্ভোক্তি। পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়ে গেছে। অনেক অসৎ সঙ্গী জুটে যায়। যে যুবলীগ নিয়ে আমরা গর্ব করতাম। সেই যুবলীগের নাম শুনলেই লজ্জা লাগে। এ কোন যুবলীগ ? এটা কী আ’লীগের যুবলীগ না সম্রাটের যুবলীগ। আ’লীগের মধ্যে এগুলো কী জন্ম নিয়েছে? সব নির্বাচনই এক রকম নির্বাচন নয়, মনে রাখবেন। নির্বাচন শক্ত নির্বাচন হবে ভবিষ্যতে।
তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে নাটোর জেলা আ’লীগের আয়োজনে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে জেলা আ’লীগের বর্ধিতসভায় এ কথা বলেন। জেলা আ’লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস এমপির সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক নৌ পরিবহনের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বাংলাদেশ আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, রোকেয়া সুলতানা, প্রফেসর মেরিনা জাহান প্রমুখ। বর্ধিত সভায় সঞ্চালনা করেন, নাটোর জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল।
এসময় জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আ’লীগের শক্তি পুলিশ নয়Ñ দলের নেতা-কর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাই এ দলের শক্তি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তা’ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবগত আছেন। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুরের নেতৃবৃন্দের বিরদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তার তদন্ত করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নেবেন। আর সিংড়ার যে সব অভিযোগ এসেছে সে বিষয়ে জেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল ব্যবস্থা নেবেন। সবাইকে মনে রাখতে হবে বিএনপি জামাতের অত্যাচার, অনাচার, অগ্নিসংযোগসহ অনেক ঘটনার কথা ভুললে চলবে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সেই রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে তাদের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করে দেশের উন্নয়ন করছেন। নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিএনপি ও জামাতকে দলে স্থান দিয়ে দলকে ভারী করবেন অথচ দলের নেতা-কর্মীদের অবহেলা করা চলবে না। যারা তা’ করেছেন তাদের সাবধান করে দিয়ে বলেন স্বাধীনতার স্বপক্ষের ছাড়া কেউ যেন দলে ঠাঁই না পায়। তাদের জানতে হবে জনগণ কি চায়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহম্মেদ পলক এমপি, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল, নারী আসনের সংসদ সদস্য রত্না আহম্মেদসহ নেতৃবৃন্দ।
নৌ পরিবহনের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, উপজেলা ইউনিয়ন কমিটি স্থানীয় ভাবেই গঠন করবেন। যদি কোনো অনিয়ম করা হয় বা গঠনতন্ত্র না মানা হয়, তাহলে জেলা কমিটি পর্যাবেক্ষণ করবেন। উপজেলা কমিটিকে অবশ্যই জেলা কমিটির নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বাংলাদেশ আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, নাটোরের সঙ্গে তার নাড়ির টান রয়েছে। এই জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার মালঞ্চি গ্রামে তার নানার বাড়ি। সেই সূত্র ধরেই নাটোরের মানুষের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক। আগামীতে আ’লীগের যে সম্মেলন হবে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিকভাবে, প্রয়োজনে তিনি উপস্থিত থেকে এ সম্মেলন করবেন।
বর্ধিত সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, আমাদের চাওয়ার কিছু নাই। একদিন আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবি করেছিলাম। সেদিনও বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হবে কিনা জানতাম না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছেন। আমাদের সম্মান দিয়েছেন।
তিনি বিএনপিকে-জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আবরার হত্যার ঘটনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবরার হত্যা মামলাটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরের কেন এতো আন্দোলন? জনগণ আন্দোলন চায় না, জনগণ পেটের ভাত চায়। ফাঁকা আওয়াজ তুলে, ষড়যন্ত্র না করে আপনারা (বিএনপি) দেশের উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করুন।