অমর একুশের আগে ও পরে রাজশাহীর ভূমিকা

আপডেট: February 16, 2020, 12:02 am

অ্যাডভোকেট মো. আব্বাস আলী


বাংলাদেশ আজ একটি বাস্তব সত্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম সুপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সূর্যখচিত পতাকা জাগরুক থাকুক, চির সমুন্নত থাকুক এটা সকল বাংলাদেশিরই কাম্য। দেশীয় চক্রান্তকারীরা বিদেশি স্বার্থবাদী চক্রান্তকারীদের সহযোগে এদেশের স্বাধীনতা ১৭৫৭ খৃস্টাব্দে যেমনিভাবে ইংরেজের হাতে তুলে দেয়- পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর ভ্রান্ত ও ক্রুটিপূর্ণ ন্যায়নীতি বিবর্জিত কু-নীতির ফলে ও চক্রান্তে তার সাথে বিদেশি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ চক্রান্ত মিশে তাদের হস্তক্ষেপের ফলে যেমনিভাবে বাংলাদেশের জন্ম এদেশে- তার অনুবৃত্তি না হোক, তার পুনরাবৃত্তি না ঘটুক এটা প্রতি বাংলাদেশির একান্ত কাম্য ও ঈপ্সিত।
স্বাধীন বাংলাদেশের ক্ষেত্রবিশেষ পর্যালোচনা করলে সর্বপ্রথম ১৯৫২ সালের রক্তঝরা একুশে ফেব্রুয়ারি ও ভাষা আন্দোলনের কথা স্মরণে উদিত হয়। একুশে মহান দিবস, একুশে অমর। অমর একুশে অর্থ ১৯৫২ খৃস্টাব্দের সেই ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখ যে দিন বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে বরকত, রফিক, সালাম, জব্বার প্রমুখ ছাত্রগণ নিজের বুকের তাজা রক্ত স্বৈরাচারী মুসলিম লীগ শাসকদের বুলেটের আঘাতে ঢাকার রাজপথে ঢেলে দিয়েছিল। এ দিবসের রক্ত শুধু বাংলা ভাষাকে রক্ষা করেনি, বাংলা ভাষাকে পৃথিবীর রাষ্ট্রভাষার মধ্যে একটি ভাষারূপে প্রতিষ্ঠিত করেনি, একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। এদিন বাঙালি জাতিকে প্রাণ দিয়েছে, জাগরিত করেছে বাঙালি মন-মানসিকতাকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেছে। এদিবস বাংলাদেশি জন-জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভাষার ওপর আঘাত হানলে জাতি জাগ্রত হয়, একটি দেশ স্বাধীন হয়- এর একমাত্র উদাহরণ বাংলাদেশ। বিশ্বে এর কোনো নজির বা উদাহরণ নেই। অমর একুশে অক্ষয় অব্যয় হোক।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশি জাতীয় জীবনে অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। তবে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পূর্বের কিছু ঘটনা, পিছনের দিনগুলোর কিছু ঘটনাধারা আমার স্মৃতিপটে জাগরুক। সেদিনগুলো ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পূর্বসুরি ও পথিকৃৎ। সেদিনগুলো ভাষা আন্দোলনের পথ করে দেয়। ৫২-র ভাষা আন্দোলনকে বাদ দিয়ে যেমনিভাবে বাংলাদেশকে ভাবা যায় না, কল্পনা করা যায় না- এদিনগুলোকে বাদ দিলে তেমনি ভাষা আন্দোলনের তথা স্বাধীনতা আন্দোললেন সূচনা ও পটভূমির কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তিমিরাবৃত্ত থেকে যায়; বাংলাদেশ স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু ও সূত্রপাত কোথা থেকে কিভাবে, তার সঠিক, বাস্তব সূত্র ও ক্ষেত্র সম্পর্কে দেশ ও সমাজ সম্পূর্ণ অজ্ঞ থেকে যায়। প্রত্যেক মহৎ ও মহান কাজের একটা শুরু ও সূচনা থাকে। বাংলাদেশ স্বাধীনতারও একটা শুরু বা সূচনা আছে। এর শুরু বা সূচনা কোথায় কীভাবে কী প্রকারে হয় তা প্রত্যেকের জানা আবশ্যক। নইলে জানাটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কোনো মহৎ কাজ বা ঘটনা হঠাৎ বা মুহূর্তে সংঘটিত হয় নাÑ বহু সময় সুযোগ ও ঘটনা প্রবাহের মিলন দরকার। বাংলাদেশও একদিনে একটি ঘটনা থেকে স্বাধীন হয়নি তাতে বহু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা প্রবাহের যোগান আছে। তবে তার একটা শুরু বা সূচনা আছে।
(চলবে)