অযত্ন আর অবহেলায় রাকসু ভবন থেমে নেই কর্তৃপক্ষের চাঁদা আদায়

আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৭, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



সংস্কারবিহীন রয়েছে দীর্ঘদিন। দেয়ালগুলো পরিণত হয়েছে পোস্টার আর লিফলেট সাঁটানোর নোটিশ বোর্ডে। অনেক পুরনো হওয়ায় সংস্কার না করায় ভবনের অভ্যন্তরের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা প্রায় অচল। এছাড়া কক্ষগুলোর দেয়াল ও ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তেরা। দরজা-জানালাগুলোর অধিকাংশই অকেঁজো হয়ে পড়েছে। ভবনের একমাত্র শৌচাগারটি ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। অযত্ন আর অবহেলায় ধুঁকছে রাজশাহী বিশ্ববিদালয়ের (রাবি) রাকসু ভবন।
ভবনের সংস্কারসহ নির্বাচন না হলেও থেমে নেই রাকসু খাতে চাঁদা আদায়। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে রাকসু নির্বাচন না হওয়ায় এই ভবনে ঠাঁই মিলেছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হলেও সংস্কার করা হয় না বলে অভিযোগ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর।
বিশ্ববিদালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন রাকসু (ছাত্র সংসদ) অচল থাকলেও প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১৫ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ফলে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গৃহীত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। এভাবে রাকসু খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটি টাকার বেশি অর্থ আদায় করেছে। তারপরও সংস্কার করা হচ্ছে না রাকসু ভবন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয়ের উদ্দেশে গৃহীত অর্থ কেবল কোষাগারে জমা থাকছে কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোন সুফল পাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯-৯০ মেয়াদকালে। ওই নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে বিপুল ভোটে রাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রদলের রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং জিএস নির্বাচিত হন জাসদ ছাত্রলীগের রুহুল কুদ্দুস বাবু। এরপর আর রাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নি।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট রাবি শাখার সভাপতি আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, ‘এই ভবন অচল হয়ে পড়েছে মূলত প্রশাসনের নজরদারির অভাবে। গার্ড, পরিচ্ছন্নকর্মী কারোরই চোখে পড়ে না। ভবনের ছাদ থেকে শুরু করে দেয়ালগুলো থেকে পলেস্তরা খসে পড়ছে। বৈদ্যুতিক লাইনগুলোও অচল হয়ে গেছে। ভবনে রং না করার কারণে প্রায় সময় প্লাস্টার ধসে পড়ছে। অযত্নের কারণে মাকড়সার জাল থেকে শুরু করে জানালা-দরজা সবই অকেজো হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছাদের যে বেহাল দশা তা নিয়ে আমরা সবসময় শঙ্কায় থাকি। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।’
নাট্যব্যক্তিত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, প্রশাসন সাংস্কৃতিক চর্চাকে ভালো চোখে না দেখার কারণেই রাকসু ভবনের এ বেহাল দশা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিবছর রাকসু খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিয়ে থাকে। এছাড়া রাকসু ভবনের উন্নয়ন বাবদ বেশ কয়েকটি ফান্ড রয়েছে যেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাকসু ভবনের কোনো কাজে আসছে না।’
তিনি আরো বলেন, অনেক চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গত প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা উপাচার্যকে চাপ দিয়ে এই রাকসু ভবনের সামান্য কাজ করাতে পেরেছিলেন। এরপর প্রশাসন এই ভবনের দিকে মুখ ফিরে দেখে নি।’
অযত্ন আর অবহেলার বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাকসু ভবন ট্রেজারার মহোদয় দেখাশুনা করেন। সুতরাং এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে ভবনে অবস্থানরত কেউ আমাদের কাছে লিখিত কোনো অভিযোগ দেয় নি বলে জানান তিনি । যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় তবে আমরা বিষয়টি দেখবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘আসলে রাকসু বিষয়টি দেখাশুনা করার দায়িত্ব রাকসুর কোষাধ্যক্ষের । তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মীর ইমাম ইবনে ওয়াহেদ বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকদিন থেকে অসুস্থ থাকায় রাকসু বিষয়ে এখন কোনো তথ্য দিতে পারবো না।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ