অরক্ষিত রেল লাইন || জীবনের সুরক্ষা চাই

আপডেট: মে ৮, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নগরীতে রেললাইনের দুইপাশ অরক্ষিত থাকায় ট্রেন দুর্ঘটনা বাড়ছেÑ এমনই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক সোনার দেশের এক প্রতিবেদনে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রেললাইনের দুপাশ দিয়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পথচারী ও যানবাহন চলাচল করাই দুর্ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। সম্প্রতি নগরীর কাদিরগঞ্জ গ্রেটাররোড, ভদ্রা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালযের চারুকলা অনুষদের গেট সংলগ্ন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পারাপারের সময় কিংবা বাজার এলাকায় রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় কাটা পড়ে মারা যান। এর বাইরে আত্মহত্যা ও অন্যত্র খুন করে রেললাইনে এনে ফেলে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, নগরীর কোর্ট স্টেশন থেকে আড়ানী পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইনের দুইপাশের জায়গার পাশ দিয়ে ছোটবড় দোকান ও বস্তি গড়ে উঠেছে। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব বস্তিতে ঝুপড়িঘরের সংখ্যা সহ¯্রাধিক। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গার দুই পাশে রয়েছে অগণিত দোকানপাট। রাজশাহী রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী গত প্রায় দেড় বছরে ১১ জন ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।
মোটের ওপর উল্লিখিত ৪৮ কি.মি রেললাইনের দুই পাশে জীবনের ঝুঁকি মারত্মকভাবে বাড়ছে। রেললাইনের দুপাশ জুড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মানববসতি গড়ে ওঠায় জীবনহানির আশংকা আরো বেড়েছে। রেলে কাটা পড়ে মৃত মানুষের সংখ্যা জানা থাকলেও প্রাণিকূলের মৃত্যুর কোনো হিসেব নেই। রেললাইন অরক্ষিত থাকা এবং জনসাধারণের অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে রেললাইনের দুপাশে বস্তি গড়ে ওঠায়। ভাসমান মানুষ মাথাগোঁজার ঠাঁই হিসেবে রেললাইনের পাশের জায়গাকে বেছে নিচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে বস্তির শিশুরা ভয়ঙ্কর ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
এছাড়াও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রয়োজনের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। রেলক্রসিংগুলোর অনেকগুলোই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ক্রসিং অতিক্রম করে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পথচারি ও যানবাহন। এসব স্থানে বিশেষ সুরক্ষা দেয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে ১৭১ জন গেটকিপারকে ছাটাই করেছে। এরা সকলেই দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক ছিলেন। শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন তাদেরকে বিনা নোটিশে কর্তৃপক্ষ ছাটাই করেছে। তাদের ৬ মাসের মজুরি বকেয়াও রয়েছে। তারা চাকরি ফিরে পেতে আন্দোলন করছে।
যে মুহূর্তে রেল ক্রসিংগুলোকে সুরক্ষা দেয়ার তাগিদ বাড়ছে তখনই গেটকিপরাদের চাকরিচ্যুতি ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দেয়। এটি উদ্বেগের বিষয়ই বটে। আমাদের প্রত্যাশা রেল কর্তৃপক্ষ রেলক্রসিংগুলোর নিরাপত্তা ও জীবনের সুরক্ষা দিবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ