অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১১ ।। প্রত্যাশ্যা ছাপিয়ে যে সাফল্য

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারকে ‘প্রত্যাশা ছাপিয়ে সাফল্য’ সাফল্য বলেই উল্লেখ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এই প্রথম প্রবৃদ্ধির হারে সাত পেরলো। বিদেশি একটি পত্রিকা বলছে, ‘অর্থনৈতিক ভিত সবল থেকে সবলতর হচ্ছে বাংলাদেশের। সারা পৃথিবী থেকেই এর স্বীকৃতি মিলছে।’
চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) অর্জিত হয়েছে, যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর আগের হিসাবের চেয়ে বেশি। নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো বলেছিল, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শেষ পর্য়ন্ত চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ হয়েছে। এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবিদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী এর আগে সর্বশেষ ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ০৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছিল বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের শুরুতে বাজেট ঘোষণার সময় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। তবে নয় মাসে অর্থনীতির গতি প্রকৃতি দেখে এডিবি ও বিশ্ব ব্যাংক বলেছিল, এবার বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। প্রাক্কলনে লক্ষ্যমাত্রা ছড়িয়ে যাওয়ার চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেও মাথাপিছু আয় হয়েছে প্রাক্কলন থেকে এক ডলার কম, অর্থাৎ ১ হাজার ৪৬৫ ডলার।
গত মে মাসে প্রতি ডলারের বিনিময়ে যেখানে ৭৮ টাকা ১৫ পয়সা পাওয়া যেত, চূড়ান্ত হিসাবের সময় তা হয় ৭৮ টাকা ২৭ পয়সা। চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৩২ হাজার কেটি টাকা বা ২২১ বিলিয়ন ডলার। বিবিএস এর প্রাক্কলনে চলতি অর্থবছর জিডিপির আকার ১৭ লাখ ২৯ হাজার কেটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলা হয়েছিল।
প্রত্যাশার উপচে পড়া সাফল্য দেশের অগ্রযাত্রায় এ এক নতুন উদ্দীপনা, নতুন উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। যে বাংলাদেশকে একদিন শুধুই ক্ষুধা-দারিদ্র, বন্যা-খরা দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে বিশ্ব জানতোÑ সেই প্রচ্ছদে বাংলাদেশের এক সম্ভাবনার চিত্র উদ্ভাসিত হয়ে উঠছে। এখন বাংলাদেশকে হিসেব করতে হচ্ছে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকেও। বাংলাদেশকে নিয়ে আগের মতো সেই তাচ্ছিল্য করার কোনো সুযোগ নেই। ভূ-রাজনৈতিক কারণেই বাংলাদেশের চলমান নেতৃত্বকে গন্য করতে হচ্ছে। এটি একটি জাতির স্বনির্ভর হয়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতাকেই স্বীকার করে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যখন সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা, ঐকমত্য তখন বাংলাদেশকে রুখবে কে? সচল অর্থনীতির যে জয়রথ সে তো এ দেশের মানুষেরই জয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বাঙালিরা কখনো পরাভব মানে নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ