অর্থনৈতিক মন্দায় ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট: জুন ২৭, ২০২২, ৬:২০ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


করোনা মহামারির পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন আমরা অর্থনৈতিক মন্দায় প্রবেশ করতে যাচ্ছি না তো। কারণ দেশটির শেয়ারবাজারের অবস্থা ভালো নেই, লাফিয়ে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। এদিকে সুদের হার বাড়ানোর ফলে অর্থনীতিতে ধীর গতি দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ভোক্তাদের প্রত্যাশা সূচকও রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। সব পণ্যের মূল্য বাড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

জুনে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়ে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়। সরকারের প্রাথমিক হিসেবে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে পণ্যের দাম বেড়েছে আট দশমিক ছয় শতাংশ। বর্তমানে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াচ্ছে দ্রুত গতিতে। এতে অর্থনীতিতে ধীর গতি চলে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে তামার দাম ১১ শতাংশ কমার পর ১৬ মাসের মধ্যে সর্ব নিম্ন হয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের জন্য খারাপ খবর। কারণ তারা তামার দামকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বেলওয়েদার হিসেবে দেখেন। নির্মাণ উপাদান হিসেবে তামার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু অর্থনীতি সংকুচিত হলে এটির চাহিদা কমে যায়।

জুনে পার্চেজিং ম্যানেজার ইনডেক্স প্রকাশ করেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। সেখানে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারিখাতে উৎপাদন কমেছে। এসএন্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের প্রধান ব্যবসায়িক অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন বলেছেন, ভোক্তারা ক্রমবর্ধমান দামের সঙ্গে লড়াই করার কারণে অ-প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদকদের অর্ডার হ্রাস পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানো ফলে এ সমস্যা আরও বেড়েছে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় শুক্রবার অর্থনীতির ওপর ভোক্তাদের প্রত্যাশার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায় ভোক্তাদের প্রত্যাশা গত ৭০ বছরের মধ্যে সর্ব নিম্ন হয়েছে। জ্বালানিতেও দেশটিতে স্বস্তির খবর নেই। এরই মধ্যে পেট্রলের দাম বেড়ে রেকর্ড হয়েছে।

দেশটির আবাসনখাতেও ধস নেমেছে। তবে ধারণ করা হচ্ছে, এটি অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারে তেমন প্রভাব ফেলবে না। তবে বাড়ি কেনা আমেরিকানদের নাগালের বাইরে চেলে গেছে। সুদরে হার বাড়ানোর ফলে মর্টগেজ হারও বেড়েছে।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ