অর্থবছরের শেষ সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে

আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৭, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গেল অর্থবছরে বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি আগের অর্থবছরের তুলনায় সামান্য কমলেও শেষ প্রান্তিকে এসে চড়তে শুরু করেছে অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
আগাম বন্যায় চালের দাম বৃদ্ধি এবং বাজেটকে এই প্রবণতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ যে তথ্য মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সার্বিক গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তার আগের অর্থবছর তা ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ ছিল।
৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির অর্থ হল, ২০১৬ সালের জুনের শেষে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হত, ২০১৭ সালের জুনের শেষে এসে তার জন্য ১০৫ টাকা ৪৪ পয়সা খরচ করতে হচ্ছে।
অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এসে মূল্যস্ফীতি বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে।ওই তিন মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ ছিল।
গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ২০১৭) মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০১৬) ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৬) ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ ছিল।
মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভার পর এক সংবাদ সম্মেলনে মূল্যস্ফীতির তথ্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “দেশে আগাম বন্যার ফলে চালের দাম বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এছাড়া গতমাসে বাজেট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়টিও মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত অর্থবছরের ১২ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে খাদ্য উপখাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, যা আগের অর্থবছর ছিল ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ ছিল।
আর খাদ্য বর্হিভূত পণ্যে এক বছরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছর ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ ছিল।
সব মিলে গত অর্থবছরের বার মাসের সার্বিক গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
গতবছর জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। অর্থবছর শেষে দেখা যাচ্ছে, সেই চেষ্টায় সফল হয়েছে সরকার।
চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে রাখার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
বিবিএস এর তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ে খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে চাল, গরুর মাংস, শাক-সবজি, কাঁচা মরিচ, সয়াবিন তেল, চা ও দুধের দাম বেড়ে।
আর খাবারের বাইরে পরিধেয় বস্ত্র, জ্বালানী, বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালী, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণে ব্যয় বেড়েছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরো আগে প্রতি মাসে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করলেও গত মে মাসে এসে প্রান্তিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ শুরু হয়, যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ