অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চিয়তায় কাফির পরিবার

আপডেট: জুলাই ২৬, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


জিপিএ-৫ পাওয়া কাফি -সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘায় হতদরিদ্র ফুটপাতে বসে তালা-চাবি মেরামতকারী শহিদুল ইসলাম পিন্টুর ছেলে আবদুল কাদির কাফি। গত রোববার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েও টাকার অভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছে পরিবারটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুল কাদির কাফি রাজশাহী কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র। কাফির বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার গোচর গ্রামে বাড়ির ভিটা ছাড়া চাষাবাদের কোন জমি নেই। ফুটপাতে বসে তালা-চাবি মেরামত করে সংসার চালায় তার বাবা। কাফির মা দুই বছর থেকে ক্ষয় রোগে ভুগছেন। তার জন্য প্রতিদিন ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকার ওষুধ লাগে। একটি আধা পাকা ঘরের দুইটি কক্ষ। একটিতে কাফি, অন্যটিতে তার বাবা-মা থাকে। ঘরে একটি চৌকি ছাড়া অন্য কোন আসবাবপত্র নেই, নেই কোন পড়ার টেবিলও। চৌকিতে বসেই পড়ালেখা করে অর্জিত হয় তার সাফলতা। বাবা আয় করতে পারলে সংসারের হাড়ি চলে। যেদিন কোন আয় হয় না, সেদিন অনাহারেই দিন যায় তাদের। তারপরও কাফি পড়ালেখা থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় নি। কাফি এবার এইচএসসি মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ এবং গত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ গোল্ডেন এ প্ল¬াস পেয়েছে। কাফির ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার ইচ্ছা।
কাফির বাবা শহিদুল ইসলাম পিন্টু জানান, আমার বাজারে একটি স্থায়ী দোকান ছিল। সেই দোকানটি স্ত্রীর চিকিৎসা ও ছেলের লেখাপড়া করানোর জন্য বিক্রি করে দিয়েছি। বর্তমানে ফুটপাতে তালা-চাবি মেরামত করে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোন মতে দিন চলছে। স্ত্রী অসুস্থ তারপর ছেলের লেখাপড়া করানো বড় দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
কাফির মা রোকেয়া সুলতানা জানান, কলেজ শিক্ষকদের সহযোগিতায় ভালো ফলাফল করলেও উচ্চশিক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্যতা। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিতার মধ্যে পড়েছি। আর্থিক সঙ্কটের কারণে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন কি অধরাই থেকে যাবে- এমনি প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে মনের মধ্যে সারাক্ষণ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ