অর্থাভাবে ক্ষীণ ন্যাশনাল পদক প্রত্যাশী শামীমের স্বপ্ন

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২২, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি বেশ আগ্রহ। স্কুল, কলেজ পর্যায়ে খেলাধুলায় পেয়েছেন নানা পুরস্কার। এরপর ভর্তি হোন বিশ্ববিদ্যালয়ে। অবারিত সুযোগ থাকায় এখানে এসে খেলাধুলার প্রতি আরো মনযোগী হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে সফলতার স্বাক্ষরও রেখেছন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন ৯ম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে। সেখানে ৩ হাজার মিটার স্প্রিন্টে অর্জন করেছিলেন সপ্তম স্থান।

স্বপ্ন দেখেন একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ন্যাশনাল পদক জিতবেন। নানা প্রতিকূলতা আর অর্থাভাবে ক্ষীণ হয়ে এসেছে তার স্বপ্ন। এই এ্যাথলেট আবারো ফিরতে চান মাঠে, দাঁড়াতে চান স্প্রিন্টের ট্র্যাকে। বলছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ’র কথা।

দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা শামীমের বাবা মারা যায় ২০০৯ সালে। এরপর থেকে পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন বড় ভাই। কিন্তু তার পক্ষে পড়াশোনাসহ খেলাধুলার খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পরেছে। এ্যাথলেটিক্সে সারা বছর অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয়। যা ব্যয় সাপেক্ষ ব্যাপার। এসব নানা প্রতিকূলতার কারণে মাঠেই যাওয়া বাদ দিয়েছেন শামীম।

শামীম ২০১৯ সালে রাজশাহী জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ৮০০ মিটার ও ১৫০০ মিটার স্প্রিন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়। রাজশাহী বিভাগীয় এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ১৫০০ মিটারে চ্যাম্পিয়ন, ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়। এছাড়াও একই বছরে রাকসু আয়োজিত ক্রিড়া উৎসবে ৩টি গোল্ড এবং ১টি বোঞ্জ অর্জন করে সেরা খেলোয়াড় হয়।

শামীম বলেন, আমরা যারা এ্যাথলেট তাদের সারা বছর অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয়। এক্ষেত্রে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। হলের ডাইনিং ক্যান্টিনের যে খাবার তা খেয়ে নিজেকে ফিট রাখা যায় না। সারা বছর খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব বিষয়ে নিয়ম মেনে চলতে হয়। যারা ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যান্ডমিন্টন, বাস্কেট বল, হ্যান্ডবল খেলে তাদের বছরে কোথাও না কোথাও খেপে (ভাড়ায়) খেলার সুযোগ থাকে। কিন্তু এ্যাথলেটদের এই সুযোগটা নেই।

শামীম বলেন, ইচ্ছে ছিল খেলাধুলার মাধ্যমে ভালো কিছু করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ন্যাশনাল পদক জিতবো। খেলাধুলা আমার রক্তের সাথে মিশে আছে, কিন্তু এই অবস্থায় আমার আর কিছু করার নেই। ভাইয়ের উপর আর চাপ দিতে চাই না। বঙ্গবন্ধু শতবর্ষ উপলক্ষে ক্রীড়া উৎসবের পরে আর অনুশীলন করিনি। আমার সব অর্জনের পেছনে যার অবদান তিনি হলেন পার্থ প্রতিম মল্লিক স্যার। তিনি আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন একদিন জাতীয় পদক পাব। কিন্তু সে স্বপ্নও আজ ধূলিসাৎ হতে বসেছে। সামনে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ গেমস, বঙ্গবন্ধু চ্যাম্পিয়নশিপসহ বিভিন্ন ন্যাশনাল প্রতিযোগিতা রয়েছে। আবারো ইচ্ছে করে মাঠে ফিরতে কিন্তু পারি না।

ভিসি স্যারের সদয় সহানুভূতি কামনা করছি।
শামীম বলেন, আমার বিশ্বাস পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পেলে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারলে আগামী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় গোল্ড পাবো। বঙ্গবন্ধু চ্যাম্পিয়নশীপেও পদক পাবো।

জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, তার সম্পর্কে জেনেছি। শামীমের মতো আরো যারা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।