অর্থের অভাবে চিকিৎসাহীন অবস্থায় নাক দিয়ে খাচ্ছেন আবু তাহির

আপডেট: জুন ১৫, ২০১৭, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


অর্থের অভাবে চিকিৎসাহীন আবু তাহির-সোনার দেশ

দীর্ঘ ৬ বছর ধরে নলের সাহায্যে নাক দিয়ে তরল খাবার খেয়ে বেঁচে আছেন এক চৌকিদার। অর্থের অভাবে উপযুক্ত চিকিৎসা করাতে না পারায় তার এই মানবেতর জীবনযাপন। ঘটনাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর ত্রিমোহনী গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে আবু তাহির(৫০)। তাহর মোবারকপুর ইউপির ৯নম্বর ওয়ার্ডের একজন চৌকিদার। সরজমিনে শিবনগর ত্রিমোহনী গ্রামে কথা হয় চৌকিদার আবু তাহির ও তার স্ত্রী শুকতারার সাথে। আবু তাহির জানান, প্রায় ৬ বছর আগে হঠাৎ করে আমার স্ট্রোক হলে প্রথমে কানসাট বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি হলে সেখানে উপয্ক্তু চিকিৎসা না হওয়ায় শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে রাজশাহী মেডিকাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসকরা বলেন যে দেশের বাইরে গিয়ে তার উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে। উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারলে তাকে আজীবন নাকের ভিতর দিয়ে পেটের নাড়ির সংযোগ করে তরল খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে হবে। কোনদিনই সে মুখ দিয়ে খাবার খেতে পারবে না। আবু তাহিরের স্ত্রী শুকতারা জানান আমারা গরীব মানুষ দিন আনি দিন খাই। তাই চিকিৎসকদের সেই পরামর্শ অনুযায়ী পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৫ কাঠা জমির মধ্যে ৪ কাঠা বিক্রী করে ও এনজিও থেকে লোন চিকিৎসা করিয়ে নাকের ভিতর দিয়ে খাদ্যনালীর সংগে সংযোগ করে নেয়া হয়। তখন থেকে শুধূ অভাবের তাড়নায় ভাল খাবার যোগাড় করতে না পারায় অতি সাধারণ তরল খাবার খেয়েই বেঁচে আছেন আমার স্বামী। শুকতারা আরো জানান স্বামীর চৌকিদারীর চাকরি করে মাত্র ৩ হাজার টাকা বেতন পাই। অন্য কোন সুযোগ সুবিধা নেই। বরং অসুস্থতার অভিযোগে স্থানীয় চেয়ারম্যান চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে চাইলে এলাকার লোকজনের অনুরোধে রেখেছে। দুইজন ছেলে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। ছেলে অটোবাইক চালায়। স্বামীর ওষুধ ও খাবার যোগাড় দিতে গিয়ে কোনদিন দুমুঠো খেতে পাই কোনদিন অনাহারেই থাকতে হয়। এটাই আমাদের জীবন। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান তোহিদুর রহমান মিঞা জানান একজন চৌকিদারের জন্য সরকার থেকে যতটুকু সুযোগ সুবিধা আছে সে ততটুকুই পায়। এখানে আমার কিছু করনীয় নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ