অর্ধশত কোটি টাকার কর ফাঁকি ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোর

আপডেট: জুলাই ৬, ২০২১, ৮:৫০ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


বিক্রয় কম দেখিয়ে প্রায় ৫৭ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়েছে বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কর মামলা নিষ্পত্তির করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। একইসঙ্গে কর মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে ফাঁকি দেওয়া টাকা আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যেও জোর দেওয়ার বলা হয়েছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড প্রকৃত বিক্রয় কম দেখিয়ে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে আয় নির্ধারণ করে। এতে বিক্রয়ের পরিমাণ অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কোম্পানিটির যে আয়কর দেওয়ার কথা, তার চেয়ে ৫৬ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩৯ টাকা কম কর দিয়েছে তারা। এজন্য কর মামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সেই মামলার সর্বশেষ কী অবস্থা জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহৎ করদাতা ইউনিট (আয়কর) এক্ষেত্রে আয়কর আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সরকারি কোষাগারে আয়কর কম জমা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করদাতা কোম্পানি বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড তাদের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে দাখিল করা বার্ষিক প্রতিবেদনে স্থানীয় গ্রস বিক্রি দেখিয়েছে ১৪ হাজার ১৬৩ কোটি ৮৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। গ্রস বিক্রি থেকে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ ১০ হাজার ৩৬১ কোটি ৪২ লাখ ১৬ হাজার টাকা বাদ দিয়ে স্থানীয় নীট বিক্রি দেখানো হয়েছে তিন হাজার ৮০২ কোটি ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।
বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা ১৯৯১ এর বিধি ২৪ (১) অনুযায়ী ‘মূসক ১৯’ এ বিক্রির বিপরীতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক দেখিয়েছে ১০ হাজার ৯১ কোটি ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৩৫৭ টাকা। এতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ বিক্রি থেকে অতিরিক্ত কমানো হয়েছে ২৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৩ টাকা। বিক্রি থেকে অতিরিক্ত বিয়োজন করে আয় কম দেখানোর কারণে গ্রস প্রফিট (জিপি) ১২৬ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৫৩০ টাকা নীট লাভ কম দেখানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তারা বিষয়টি চিঠি দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিকে জানিয়ে দিয়েছে। বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসহ কর মামলাটি নিরীক্ষার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয় গুলো আইনানুগ ভাবে বিবেচনা করে কর মামলা নিষ্পত্তি করা হবে।
প্রায় ৫৭ কোটি টাকার কর ফাঁকির বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি বাংলাদেশের হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ারস্ অ্যান্ড কোম্পানি সেক্রেটারি মো. আজিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, যোগাযোগের জন্য এই প্রতিবেদকের সেল নাম্বার কোম্পানির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপক বরাবর পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দু’দিন অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি বাংলাদেশের কর ফাঁকির মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (মূল্য সংযোজন কর) মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এমন কিছু তার জানা নেই।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন