অল্প পুঁজিতে গলায় ঝুলিয়ে ‘হরেক মালের’ ফেরি করে সংসার চলে প্রতিবন্ধী আয়াতুল্লাহ খোমনীর

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০২৪, ১২:০৭ অপরাহ্ণ


শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা:


“আমার দু’টি হাতই নেই, তাতে কী হয়েছে? ভিক্ষা করে খাওয়া তো মোটেই ভাল নয়। তাই আমি চেষ্টা করেছি নিজে হালাল উপায়ে উপার্জন করে সংসার চালাতে। তাতে আমি সফল হয়েছি। যতদিন বাঁচবো ততদিনই আমি আল্লাহ রহমতে ও আপনার দোয়ায় নিজেই উপার্জন করে সংসার চালাবো।”

কথাগুলো বললেন আয়াতুল্লাহ খোমনী। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের তেলকুপি গ্রামের আজমুল হকের ছেলে। খোমনী জানান, ২০১০ সালে হাজী কলমদার মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াকালে ১১ বছর বয়সে বাড়ির পাশে মসজিদের কাজ চলার সময় ভুল করে বিদ্যুতের তারে দুই হাত পড়লে দু’হাত পুড়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

কিন্তু তিনদিন থাকার পরেও কোনো চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকা মেডিকেল ভর্তি হন। সেখানে ১৭দিন পর দুই হাত কেটে ফেলতে হয়। তখন থেকেই তিনি প্রতিবন্ধী। বাড়ি ফিরে এসে প্রথমে সামান্য কিছু হরেক মাল নিয়ে বাড়ির সামনে টুলে বসে বেচাকেনা করতে শুরু করেন। গত বছর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দিলে সে টাকা দিয়ে কিছুদিন জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলাতে হরেক মালের ব্যবসা শুরু করেন।

দু’মাস আগে বাড়ি ফিরে এসে আরো পাঁচ হাজার লোন করে মোট ১০ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে প্রায় ১৫ কেজি ওজনের এক বক্স গলায় ঝুলিয়ে হরেক মালের ফেরি করেন। বক্সে আতর, চিরণি, আয়না, মানিব্যাগ, চাবির রিং সহ প্রায় ৫০ ধরনের পণ্য থাকে। প্রতিদিন প্রায় আটশো টাকা বেচাকেনা হয়। লাভ হয় প্রায় দুইশো টাকা। তাই দিয়ে বাবা-মা, দুই বোন দুই ভাই, স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে খোমনীর সংসার চলে ।

বোন দুটির বিয়ে দিয়েছেন। এক ভাইকে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করাচ্ছেন। অন্য ভাই ছোট। সহযোগিতা বলতে শুধু একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড আছে। ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার কোনোদিন খোঁজ করেননি। আমার ইচ্ছে যদি একটি ভ্যান ও কিছু টাকা পেলে আমি আরো কিছু মালামাল কিনে নিজে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে দূরদূরান্তে যেতে পারবেন বলে জানান্। তাতে ব্যবসা ভাল হবে। তা দিয়ে ভাই দুটোকে ও আমার সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতে পারতে চায় খোমনী।

এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. উজ্জল হোসেন বলেন, তার দুই হাত না থাকলে ভিক্ষা না করে কষ্ট করে নিজেই উপার্জন করে সংসার চালানো অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল বলেন, বর্তমান জনবান্ধব সরকারের আমলে কোনো কোনো অসহায় ও দুস্থদের অবহেলার করার সুযোগ নেই। আয়াতুল্লাহ খোমনীর জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version