অসচ্ছল অন্তঃসত্তা নারী পাবেন চার হাজার টাকা

আপডেট: July 30, 2020, 1:35 pm

সোনার দেশ ডেস্ক:


অসচ্ছল অন্তঃসত্তা নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নগদ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অন্তঃসত্তা নারী গর্ভকালীন চারবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রতিবার এক হাজার টাকা হারে মোট চার হাজার টাকা নগদ অর্থ পাবেন। আপাতত দেশের রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার মোট ৪৩টি উপজেলায় এ সুবিধা চালু হচ্ছে। মায়েদের পাশাপাশি ৬০ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্যও টাকা দেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ‘ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিপি)-যতœ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প’ গ্রহণ করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের অসচ্ছল-দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং মায়েদের সুনির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের সুবিধা দিতে নগদ অর্থ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কমন ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা এবং শিশু পুষ্টি ও সচেতনতা বাড়ানোসহ স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সহায়তা বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানসহ জনসচেতনতার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের সক্ষমতা উন্নয়ন বাড়বে।
প্রকল্পটি ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে।
টাকা দেওয়া হবে শিশুদেরও
সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় কম্পোনেন্ট-১ এর আওতায় দরিদ্র অন্তঃসত্তা নারীদের গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া ছাড়াও শূন্য থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের জন্য প্রতি মাসে গ্রোথ পরীক্ষার জন্য প্রতিবার ৭০০ টাকা হারে অর্থ দেওয়া হবে। ২৫ থেকে ৬০ মাস বয়সী শিশুদের প্রতি তিন মাস অন্তর গ্রোথ পরীক্ষার জন্য প্রতিবার এক হাজার ৫০০ টাকা হারে অর্থ দেওয়া হবে। অন্তঃসত্তা নারী ও মায়েদের জন্য প্রতিমাসে শিশু পুষ্টি ও উন্নত শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতিবার ৭০০ টাকা হারে অর্থ দেওয়া হবে।
দক্ষতা উন্নয়ন
প্রকল্পের কম্পোনেন্ট-২ এর আওতায় সুফলভোগীদের মনিটর করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান এবং জনসচেতনতার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে। পোস্টাল ক্যাশ কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সুফলভোগীদের কাছে টাকা পৌঁছাতে ইউনিয়ন পোস্ট অফিসের দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে। বিদ্যমান ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে সেফটি নেট সেল (এসএনসি) প্রতিষ্ঠা করা হবে।
প্রভাব মূল্যায়ন
প্রকল্পের কম্পোনেন্ট-৩ এর আওতায় এমআইএস সিস্টেম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুফলভোগীদের মনিটরিং করা হবে। শিশুর পুষ্টি ও উন্নয়নের বিষয়ে ২ বছর অন্তর সুফলভোগীদের নলেজ, এটিচ্যুড অ্যান্ড প্র্যাকটিস (কেএপি) মূল্যায়ন করা হবে। খানা জরিপের ভিত্তিতে প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে এবং ফোকাসড গ্রুপ সিকাসন এর মাধ্যমে গুণগত মূল্যায়ন ইত্যাদি কাজ করা হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন