অসময়ের বৃষ্টিতে অন্ধকারে নগরী

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে অন্ধকারে ঢেকে যায় পুরো নগরী। ভোগান্তিতে পড়ে কর্মব্যস্ত মানুষজন। বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় বিদ্যুৎ। আসে বৃষ্টি ছাড়ার পর। কোনো কোনো জায়গায় দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার মোট ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক মিলিমিটার। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাতটা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
পাঁচটার দিকে টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করলেও ৬টা থেকে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। এর সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় বিদ্যুৎ। অন্ধকারে ঢেকে যায় পুরো নগরী। বৃষ্টি ছাড়ে সাতটায়। বৃষ্টি ছাড়ার পর কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ এলেও আলুপট্টি, সাহেববাজার, কুমারপাড়া, মিয়াপাড়া, সাগরপাড়া, নিউমার্কেট এলাকাসহ অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ আসে রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে। এ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে এলাকার লোকজন। বৃষ্টির কারণে জলমগ্ন হয়ে পড়ে অনেক এলাকা। বিদ্যুৎ ও বৃষ্টির কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।
এর আগে সকাল থেকেই ছিল মেঘের লুকোচুরি খেলা। আকাশে তেমন রোদ ছিল না। দুপুরের পর থেকে পুরো আকাশ ঢেকে যায় মেঘে। এরপর ৫টার দিকে টিপ টিপ করে বৃষ্টিপাত শুরু হয়।
মিয়াপাড়া এলাকার রহিদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর বৃষ্টি ছেড়ে গেলেও বিদ্যুৎ আসার কোনো নাম নেই। গরম না পড়তেই যদি এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে গরমের সময়ে কী অবস্থা হবে!
সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বৃষ্টিতে আটকা পড়ে খায়রুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে বাজারে এসেছিলাম। বৃষ্টি জোরে শুরু হওয়ার সঙ্গেই চলে যায় বিদ্যুৎ। পুরো শহর অন্ধকার। এইজন্য টানা দেড় ঘণ্টা মার্কেটের গেটে বসে থেকে তাকে অপেক্ষা করতে হয়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃষ্টি চলাচলকালীন সারা শহরের কোথাও বিদ্যুৎ ছিল না। বৃষ্টি ছেড়ে যাবার পর বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে। এরপরও কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ ছিল না। কারণ ১১ কেভির সংযোগের পিন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তা খুঁজে পেয়ে মেরামত করতে সময় লেগেছে।
এ বৃষ্টিপাতে ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক (শস্য) কে জে এম আব্দুল আউয়াল। তিনি বলেছেন, ফসলের ক্ষতির চেয়ে লাভই বেশি হবে। কারণ বহুদিন পর বৃষ্টি হওয়ার কারণে ফসলের সালোকসংশ্লেষণ ভালো হবে। খাদ্যের জোগান বাড়বে।