অসহায় গৃহবধূর জীবন বাঁচালেন দিনাজপুরের এসপি

আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২০, ১:৩০ অপরাহ্ণ

দিনাজপুর সংবাদদাতা :


মহানুভবতার নাম দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম বিপিএম (বার)। তাঁর উদারতার দৃষ্টান্ত উজ্জ্বল হয়ে হয়তো জ¦লবে না কিন্তু অসহায় নাসরিন বেগমের অবুঝ শিশুর হৃদয়ে আজীবন জ¦লজ¦ল করে আলো ছড়াবে। অসহায় ভ্যান চালক তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী নাসরিন বেগম চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু-পথযাত্রী খবর শুনার পর খানাসামা ওসি শেখ কামাল হোসেন নির্দেশ প্রদান করেন যতদ্রুত সম্ভব উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য অ্যাম্ভুলেন্স পাঠিয়ে দিয়ে নিয়ে আসেন এবং চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন এসপি আনোয়ার হোসেন। জেলার খানসামা উপজেলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এক গৃহবধূর চিকিৎসা নিশ্চিতের মাধ্যমে এক মানবতার পরিচয় দিলেন তিনি।
শুক্রবার সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ ও কুরবান আলী জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম বিপিএম (বার) এর নজরে আনেন।
এসপি আনোয়ার হোসেন আরোও জানান, নিউজটি পড়ে আমার খুব খারাপ লেগেছে। ৪ বছর আগে চিকিৎসকের ভুলের কারণে ৪ বছর ধরে বিছানায় কাতর জীবন-যাপন করছেন গৃহবধূ নাসরিন বেগম (২৫)। নিউজটি আমার হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমি তাৎক্ষণিক খানসামা থানার ওসিকে ফোন দিয়ে বাড়িতে গিয়ে নাসরিন বেগমের খোঁজ খবর নিতে বলি। পরে অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। নাসরিনকে তার বাড়ি থেকে তার পরিবারের লোকজনসহ দিনাজপুরে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গৃহবধূ নাসরিন বেগমের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। নাসরিন বেগমের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে আমি মেডিকেল বোর্ড গঠন করব। আমি তার চিকিৎসার সব ধরনের খরচ চালাব।
খানসামার থানার ওসি শেখ কামাল হোসেন বলেন, এসপি স্যারের নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথে অসুস্থ নাসরিন বেগমের স্বামী তৌহিদুল ইসলামকে ফোন দিয়ে ঠিকানা নিশ্চিত হওয়ার পর সঙ্গী পুলিশ ফোর্স সাথে নিয়ে নাসরিন বেগমের বাড়িতে পৌঁছে যাই। অসুস্থ নাসরিন বেগম আসলেই জটিল রোগ নিয়ে বেড়ার ঘরের বারেন্দায় শুয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন। তার দুচোখের কোনা দিয়ে অশ্রু ঝরছে। নাসরিনের শয্যার পাশে বসিয়ে কী হয়েছে আপা বলতেই অঝরে কাঁদতে কাঁদতে মুর্চ্ছা যাচ্ছেন নাসরিন বেগম। নাসরিন বলেন, স্যার আমার জীবনটা শেষ করে দিল ডাক্তার শামসুদ্দোহা মুকুল। তার অপচিকিৎসার কারণে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি। আমার একটাই ইচ্ছা স্যার আমি মরে গেলে আমার অবুঝ শিশুটির কী হবে- সে তো এতিম হয়ে যাবে। স্যার আমাকে আরও কিছু দিন বাঁচতে ইচ্ছা করে স্যার। আমার অবুঝ শিশু জন্য বাচাঁর ইচ্ছা করে স্যার। আমার ভ্যান চালক স্বামীর পক্ষে আমার আর চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব নয়। এসপি স্যারের নির্দেশে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়া হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য এখন দিনাজপুর এম আব্দরি রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৭ফেব্রুয়ারি গর্ভবর্তী নাসরিন বেগমকে খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে লাইফ কেয়ার কিনিকে সিজার করানোর জন্য নিয়ে যান। সেখানে খানাসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল সিজার করেন। সিজার করার ৬ দিন পর্যন্ত সেই ক্লিনিকে চলে নাসরিন বেগমের চিকিৎসা। চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়ি নিয়ে গেলে নাসরিন বেগমের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শিশু জন্মের ৮ম দিন আবারও সেই ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় নাসরিনকে। সেখানে আবারও করা হয় তার অস্ত্রপচার। সেখানকার কর্তব্যরত নার্সরা তাকে জানান, সিজার করার জন্য চিকিৎসক ভুলবশতঃ রোগীর পেটের ভিতর তুলা ও গজ রেখে দিয়েছিলেন। তা অপারেশনের মাধ্যমে বের করা হয়। কিন্তু সেই অপারেশনের পর থেকে রোগী আর সুস্থ হতে পারেনি। রংপুর, দিনাজপুর, চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরে অসংখ্য গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনি আর সুস্থ হতে পারেন নি। সর্বশেষ চলতি মাসে দিনাজপুর ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেবুন নাহার মিনুর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় নাসরিনকে। তিনি আগামী ৩ মাসের জন্য ওষুধ দিয়েছেন। ৩ মাসের মধ্যে ওষুধ খেয়ে যদি রোগী সুস্থ না হয় তাহলে রোগীর জরায়ু কেটে ফেলতে হবে। নইলে জরায়ুকে ক্যান্সার হবে। ভবিষ্যতে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। চিকিৎসক আমাকে জানিয়েছেন যে, প্রথমে রোগীর সিজার করার জন্য ইনফেকশন হয়েছে। সেই ইনফেকশন তার জরায়ু পর্যন্ত চলে গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ