‘অসহিষ্ণুতা’র পাঠ, ভারতে ১২৫টি স্কুলকে নোটিস পাঠাল শিক্ষা দফতর

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



স্কুলে অসহিষ্ণুতার পাঠ পড়ানো হচ্ছে, এই অভিযোগে ১২৫টি স্কুলকে শো-কজ নোটিস পাঠাল শিক্ষা দফতর৷ অভিযোগ, শিক্ষার নামে পড়ুয়াদের মন বিষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে ওই সব শিক্ষাঙ্গনে৷ এর আগে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আরএসএস-কে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ধর্মের ভিত্তিতে কোনও স্কুল করতে দেবেন না, সব বন্ধ করে দেবেন৷
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এদিন ১২৫টি স্কুলকে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা প্রচারের অভিযোগে শো-কজ করা হয়েছে৷ সূত্রের খবর, ওই ১২৫টির মধ্যে ৯৬টির নাকি স্কুল চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় পারমিটই নেই৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “এটা সবে প্রথম ধাপ৷ সরকারি তদন্তে আমরা সেইসব স্কুলকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি, যেখানে ধর্মীয় মৌলবাদের পাঠ দেওয়া হচ্ছে৷” এদিনই প্রথম নয় অবশ্য, এর আগেও বেশ কয়েকটি স্কুলকে একই অভিযোগে শো-কজের চিঠি পাঠানো হয় বলে সূত্রের খবর৷
গত বুধবার বিধানসভায় শিক্ষা দফতরের বাজেট বিতর্কের পর শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, স্কুলে সরকারি সিলেবাস মেনে পঠনপাঠন ছাড়া আর কিছু কাম্য নয়৷ ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলবে না৷ রাজ্য সরকারের অনুমতি নিয়ে স্কুল খুলে সেখানে সিলেবাস বহির্ভূত কোনও পঠনপাঠন হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
বস্তুত, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় স্কুল বাড়ি বা মাঠ ভাড়া নিয়ে বেআইনিভাবে নানা অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে৷ এমনকী পরীক্ষা বন্ধ রেখেও অনেক সময় প্রধান শিক্ষক বা স্কুল পরিচালন সমিতি বিয়ে বাড়ির জন্য স্কুলবাড়ি ভাড়া দিয়ে দিচ্ছেন৷ আবার স্কুল ভাড়া নিয়ে টানা তিনদিন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়ায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে৷ এই কারণেই শিক্ষাঙ্গনে পঠনপাঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই রাজ্য সরকার স্কুল ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা পর্ষদ তথা সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক করতে চাইছে৷ শিক্ষা দফতরের তদন্ত প্রসঙ্গে পার্থবাবু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী একটি তালিকা দিয়েছিলেন৷ সেই তালিকা ধরে আমরা তদন্ত করি৷ কিছু শো-কজ, সাসপেন্ড করি৷ শিক্ষা দফতরের অনুমতি নিয়ে স্কুল খুলে ধর্মকে পাঠ্যক্রমে বরদাস্ত করব না৷”
পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলগুলির অনুমতি ছাড়া চলা নিয়েও সরকারের কড়া মনোভাবের কথা বিধানসভাতেই জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী৷ সমস্ত বেসরকারি স্কুলের উপরেই যে কড়া নজর রয়েছে, সে কথাও স্পষ্ট করে বলেন, “নজরদারি আরও বাড়ানো হবে৷ সমস্ত অভিযোগেরই তদন্ত চলবে৷ ইতিমধ্যে শিক্ষা দফতরে প্রায় ১২৫টি বেসরকারি স্কুল নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট এসেছে৷ এর মধ্যে ৯৬টি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ‘নো-অবজেকশন’ সার্টিফিকেট নেয়নি৷” শিক্ষামন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, “শিক্ষার নামে ধর্মান্ধতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না৷ শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে বাতিল হবে সংশ্লিষ্ট স্কুলের অনুমোদন৷”- সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ